নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন (২৪) ও মো. সাব্বির আহম্মেদ (২৫)। ইমন দুর্গাপুর পৌরসভার মোক্তারপাড়া এলাকার এবং সাব্বির একই উপজেলার তেরিবাজার এলাকার বাসিন্দা।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা এ মামলার প্রধান সন্দেহভাজন তাজুল ইসলামের সহযোগী বলে পুলিশের ধারণা। হত্যাকাণ্ডে তাঁদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা জিজ্ঞাসাবাদে আরও স্পষ্ট হবে। গ্রেপ্তার দুজনকে এখনো দুর্গাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়নি।
ওসি আরও জানান, গত বছরের ১০ নভেম্বর আলিফের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন ইমন। এ ছাড়া সাংবাদিক হত্যা মামলার তদন্তেও তাঁর নাম উঠে এসেছে। ইমন ও সাব্বিরের বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ নিয়ে সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
এর আগে গত ১৮ অক্টোবর সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব এবং ২০ অক্টোবর রাতে আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাঁদের দুজনকে পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁরা কারাগারে রয়েছেন।
গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। এ ঘটনায় পরদিন তাঁর স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা ওরফে খাদিজা আক্তার বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়।
নিহত আলিফ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। ওই পেজে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে লেখালেখি করতেন।