নির্ধারিত দামে কোথাও এলপিজি বিক্রি না হলে বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি ও অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে বর্তমানে বেশ অস্থিরতা রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার এলপিজির দাম সমন্বয়ের চেষ্টা করছে। তবে কিছু এলাকায় সমন্বয় করা মূল্যে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কমিশন নির্ধারিত দামে এলপিজি ও অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সব জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনলাইন সভা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বাজার তদারকি চলছে। এর আগে অনিয়মের জন্য জরিমানাও করা হয়েছে এবং বর্তমানে এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলপিজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও সরকারের আলোচনা চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। এসব আলোচনায় ব্যবসায়ীরা বাজার স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এলপিজি মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি পণ্য। তাই কোথাও নির্ধারিত দামে এটি না পাওয়া গেলে গণমাধ্যমকে বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে এ ধরনের পরিস্থিতিতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধু অভিযান চালিয়েই বাজার পরিস্থিতির সমাধান করা সম্ভব—সরকার এমনটি মনে করে না। বরং এলপিজি আমদানি ও বোতলজাতকারী ব্যবসায়ীরা যাতে ন্যায্য মূল্য পান, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে সরবরাহ ঘাটতি এড়ানোর পাশাপাশি বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা আইন মানছেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে অন্যান্য উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানকে একমাত্র সমাধান হিসেবে না দেখে সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে সরকার।
খাদ্যসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষকে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা।