স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসক ও মিডওয়াইফ নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতা মাস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের নারীরাও এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সচেতনতার ঘাটতি এবং সময়মতো রোগ শনাক্ত না হওয়ায় অনেক নারী যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ রোগ নারীর শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়ও গভীর প্রভাব ফেলে।
শুধু সভা-সেমিনার কিংবা টেলিভিশনে প্রচার চালিয়ে কাঙ্ক্ষিত সচেতনতা তৈরি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বছরে অন্তত দুই থেকে তিন দিন নিজ নিজ গ্রামে গিয়ে স্থানীয় নারীদের একত্র করে স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ ও এ বিষয়ে সচেতন থাকার উপায় সম্পর্কে জানানো উচিত। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ মানবিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশে একসময় সংক্রামক রোগে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটলেও বর্তমানে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ থেকে ৭৩ শতাংশের জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ। হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মতো রোগ মোকাবিলায় প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি জানান, দেশে প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ১৫ জনের স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হয়। আক্রান্ত নারীদের প্রায় ৬৩ শতাংশ কোনো ধরনের স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আসেন না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয় এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্ক্রিনিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাছির উদ্দীন। এ সময় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনসহ স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।