ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পাঠ্যবইয়ে ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহারের বিতর্কের পর সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ উদ্যোগের আওতায় মোট ৩৮ লাখ বইয়ের পৃষ্ঠা পরিবর্তন করা হবে। এর মধ্যে ১৮ লাখ বই ইতিমধ্যে স্কুল পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
বাকি ২০ লাখ বইয়ের মুদ্রণকাজ চলছে। স্কুলে সরবরাহ করা বইগুলো ফিরিয়ে এনে বিতর্কিত পৃষ্ঠা বাদ দিয়ে সেখানে সংশোধিত পৃষ্ঠা যুক্ত করার পরিকল্পনা জানিয়েছে এনসিটিবি।
অন্যদিকে, প্রাথমিকের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে অপ্রাসঙ্গিকভাবে ব্যবহৃত ৮২টি নৌকার ছবি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও চলতি বছর সেগুলো সংশোধন করা সম্ভব হচ্ছে না। বইগুলোর ছাপার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় এ বছর পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম শ্রেণির ‘আমার বাংলা বইয়ে’ ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি নৌকার ছবি রয়েছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নৌকার ছবি প্রাসঙ্গিক হলেও বিভিন্ন পাঠের বিষয়বস্তুর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও একাধিক জায়গায় এসব ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে ‘উপাত্ত ও তথ্য’ বিষয়ে আলোচনার সময় ‘নলেজ পিরামিড’ বা জ্ঞানের পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তরে ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি রাখা হয়েছে। তবে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে একই ধারণা বোঝাতে ‘বুদ্ধি’ শব্দের সঙ্গে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের বইয়েও ‘উইজডম’ বা প্রজ্ঞা বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার প্রতীক ছিল।
এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হায়দার বলেন, প্রাথমিকের বইয়ে ব্যবহৃত ছবিগুলো বিষয়বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিল্পীরা এঁকেছেন। পাঠ্যবইয়ের মূল বিষয়বস্তু পরিবর্তন না হলে ছবি বদলানো কঠিন। তবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে।
দাঁড়িপাল্লার ছবি থাকা আইসিটি বইয়ের পৃষ্ঠা সংশোধনের বিষয়ে এনসিটিবি জানিয়েছে, উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো বই ঢাকায় ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা পরিবর্তন করা হবে। পাশাপাশি ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনাও রয়েছে সংস্থাটির।