প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক চিন্তাধারা, কর্মপদ্ধতি ও সাধারণ মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ নুরুল ইসলাম মণি। তাঁর মতে, তারেক রহমানের জীবনযাপন ও দেশ গঠনের ভাবনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন রয়েছে। এ প্রসঙ্গেই তিনি বলেছেন, ‘উনি তারেক জিয়া নন, উনি আরেক জিয়া।’
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বরগুনা সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন চিফ হুইপ।
তারেক রহমানের জীবনযাপন ও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের প্রসঙ্গ তুলে নুরুল ইসলাম মণি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গ্রামেগঞ্জে ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশেন এবং তাঁদের দুর্ভোগ বোঝার চেষ্টা করেন। তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন এবং মানুষের সমস্যা উপলব্ধি করে দায়িত্ব পালনে মনোযোগী থাকেন বলে মন্তব্য করেন চিফ হুইপ।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, অতীতে শেখ হাসিনা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ‘খুনি’ বলে বক্তব্য দিতেন। তবে তারেক রহমান প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে দেশ গঠনে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের মানুষের জন্য এখনো অনেক কাজ বাকি থাকায় প্রতিশোধ নয়, বরং উন্নয়ন ও রাষ্ট্র গঠনে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
তারেক রহমানের কর্মতৎপরতার প্রশংসা করে নুরুল ইসলাম মণি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাত জেগেও কাজ করেন। কৃষকদের আর্থিক চাপ কমাতে সরকারের প্রথম দিকের সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদসহ মওকুফের উদ্যোগ রয়েছে। এ পদক্ষেপ কৃষকদের উপকারে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় সরকারের সামাজিক সুরক্ষা ও শিক্ষা খাতের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, দল-মত নির্বিশেষে ৫০ লাখ দরিদ্র ও অসহায় নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল চালু, বিনা মূল্যে বই বিতরণ এবং শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।
নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও ক্ষমতায়িত করার লক্ষ্যেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান নুরুল ইসলাম মণি। এ ছাড়া মেয়েদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে স্নাতকোত্তর বা এমএ পর্যন্ত পড়াশোনার ব্যয় বহনের সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে চিফ হুইপ বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে তিন বছরের মধ্যে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল। কৃষির উন্নয়নে খাল খনন, তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশ এবং হাঁস-মুরগি পালনের মতো কর্মসূচিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শারদীয় দুর্গোৎসব প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মণি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের সব নাগরিকের অধিকার সমান। ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে হিন্দু-মুসলমানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রেখে বসবাস করা প্রয়োজন। সবার অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
চিফ হুইপের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্গাপূজার আয়োজনের জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে চার কোটি টাকা চাওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক কোটি টাকা বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা দিয়েছেন। এ ছাড়া এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে পাঁচ দিনের ছুটির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় বরগুনার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।