হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার দুই এএসআইকে ঘিরে একের পর এক ঘুষসংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে পুলিশের ভূমিকা ও তদারকি ব্যবস্থা। এক দিনের ব্যবধানে থানার এএসআই অতনু বণিক ও মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে মাসুদ আলম নামে এক ব্যক্তি তার ফেসবুক পেজ ‘আইটিভি’-তে এএসআই অতনু বণিকের কথোপকথন ও অর্থ লেনদেনের দৃশ্যসংবলিত একটি ভিডিও প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অতনু বণিকের সঙ্গে কয়েকজনের কথাবার্তা এবং অর্থ লেনদেনের দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওর কথোপকথনে মামলার বিভিন্ন ধারা, আসামির জামিন, মামলা আপস এবং খরচের বিষয়ে আলোচনা করতে শোনা যায়। একপর্যায়ে ১০ হাজার টাকা নিয়ে দরদামের কথাও উঠে আসে।
ভিডিওতে অতনু বণিককে এক ব্যক্তির কাছে আরও দুই হাজার টাকা চাওয়ার পাশাপাশি আসামিকে নিয়ে যাওয়ার সময় খরচের টাকা দেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়। পরে মামলার বিভিন্ন ধারায় শাস্তির সম্ভাব্য সময় নিয়েও তাকে আলোচনা করতে দেখা ও শোনা যায়।
এ সময় এক হাজার টাকার নোট হাতে নিয়ে গুনতেও দেখা যায় তাকে। ভিডিওর শেষাংশে চুনারুঘাট থানা ভবন, প্রবেশপথ এবং পাশের বাজারের দৃশ্য রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, ভিডিওটি প্রায় ছয় মাস আগের। সে সময় চুনারুঘাট থানায় শফিকুল ইসলাম ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অতনু বণিকের বিরুদ্ধে এর আগেও একটি মামলার তদন্তে গিয়ে এক নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ ওঠার কথা জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। ওই ঘটনায় নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অতনু বণিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, অতনু বণিকের ভিডিও প্রকাশের একদিন আগেই একই থানার এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের ঘুষসংক্রান্ত বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে ঘুষ গ্রহণ নিয়ে তার বক্তব্য ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে তাকে চুনারুঘাট থানা থেকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।
নতুন ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর চুনারুঘাটে পুলিশের তদারকি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা বের করার আহ্বান জানিয়েছে।
চুনারুঘাট থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। বিস্তারিত জেনে এএসআই অতনু বণিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে এএসআই অতনু বণিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।