লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের বহিষ্কৃত সভাপতি ফারুক হোসেনকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ‘পাঁচ, পাঁচ-ই লাগবে, এটা ভিপি নুরের নির্দেশ’—এমন কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার তাকে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর সদর থানায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান চৌধুরী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে ফারুক হোসেন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদী সোলায়মান চৌধুরীর অভিযোগ, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এতে নুরুল হক নুর ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারুক হোসেন। তার দাবি, স্থানীয় একটি চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার কণ্ঠ সম্পাদনা করে ওই অডিও তৈরি করেছে।
অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার রাতে ফারুক হোসেনকে সংগঠনের সব দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় যুব অধিকার পরিষদ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক নাঈম হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি ও সংগঠনের নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কেন্দ্রীয় সভাপতি নাদিম হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মুনতাজুল ইসলামের নির্দেশে ফারুক হোসেনকে সাংগঠনিক সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এদিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে নুরুল হক নুর বলেন, তার নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নিতে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, নুরুল হক নুরের নাম ব্যবহার করে টাকা চাওয়ার অভিযোগে ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিষয়টি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।
স্থানীয় সিরাজ আবদীন বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো নেতার নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের ঘটনা সত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অডিওটি কৃত্রিমভাবে তৈরি বা সম্পাদনার অভিযোগও তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা উচিত।