কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়া মাদক মামলার আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ গাজীপুরের বাইমাইল থেকে পালাননি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই তিনি পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনায় দায়িত্বে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্যের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন এসআই প্রবীর কুমার ও প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন। বাকি তিন পুলিশ সদস্যকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজিরা ও মামলার শুনানির জন্য নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে তাদের কারাগারে ফেরানোর সময় প্রিজন ভ্যান থেকে ‘পিচ্চি রাজা’ পালিয়ে যান।
ঘটনার পর পুলিশ জানিয়েছিল, রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভ্যানটি গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে রাজা শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলেন। এরপর দায়িত্বে থাকা এক এসআই তাকে গাড়ি থেকে নামালে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। তবে পরবর্তী তদন্তে ওই তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পর্যবেক্ষণ কমিটি।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজাকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে এসআই প্রবীর কুমার ও চালক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য তিন পুলিশ সদস্যকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।
পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (সিটি এসবি) মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম জানান, বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তারা ঘটনার বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দিচ্ছেন না এবং রাজা কোথা থেকে পালিয়েছেন, তা নিয়েও তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
তিনি বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে যে স্থানটির কথা বলা হয়েছিল, সেটি সঠিক নয় বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রকৃত স্থান এবং কীভাবে রাজা পুলিশের হেফাজত থেকে বেরিয়ে গেলেন, তা জানতে তদন্তের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য কোনাবাড়ী থানার ওসি মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রিজন ভ্যান কারাগার থেকে আদালত কিংবা আদালত থেকে কারাগারে যাওয়ার পথে কোথাও থামতে পারে না। জরুরি পরিস্থিতি হলে নিকটবর্তী থানায় গিয়ে ভ্যান থামানোর বিধান রয়েছে। ফলে পুলিশ সদস্যরা যে স্থানে ভ্যান থামানোর কথা বলেছেন, সেখানে থামার সুযোগ ছিল না।
তিনি জানান, পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ কমিটির তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রতিবেদন দেওয়া হবে এবং এরপর বিভাগীয় মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে।
এদিকে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সাহেব আলী পাঠান জানিয়েছেন, পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকলেও প্রাথমিক তদন্তে রাজা ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’কে চলতি বছরের ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।