কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিলে কিশোর গ্যাং লিডার রতনের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. মহসিন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ওই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। মিছিলে রতন কীভাবে বা কার মাধ্যমে এসেছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।
মহসিন বলেন, রতনকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না এবং তার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সম্পর্কও নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিছিলের একটি ভিডিওতে রতনকে তার পেছনের সারিতে হাঁটতে দেখা গেছে বলেও জানান তিনি।
তবে মিছিলের অগ্রভাগে রতন কীভাবে গেলেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন মহসিন।
মিছিলের বিন্যাস তুলে ধরে তিনি বলেন, শুরুতে মহানগর ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা ছিলেন। এরপর মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি হিসেবে তিনি সামনের সারিতে দলের নেতাদের সঙ্গে ছিলেন। তার পেছনে বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ছিলেন।
মিছিলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কারা নিয়ে এসেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান মহসিন। বিষয়টি নিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মহসিনের দাবি, আগের সরকারের সময়ে রতন কুমিল্লার বিভিন্ন নেতার ছত্রচ্ছায়ায় থেকে কিশোর গ্যাং পরিচালনা করেছিলেন এবং তার গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। তাকে সামনে রেখে একটি পক্ষ রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি। এসব বক্তব্য মহসিনের নিজস্ব দাবি।
এ বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান রানা বলেন, দলীয় কর্মসূচিতে কিশোর গ্যাংয়ের উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। রতন কীভাবে মিছিলে এসেছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। ছাত্রদলের কোনো নেতার সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিম হত্যার পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন দিনে কুমিল্লা মহানগরসহ জেলার ১৮টি থানায় অভিযান চালিয়ে গ্যাং লিডারসহ ১ হাজার ২৯৪ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযান শুরুর পর কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাং নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।