1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে পাস ‘জরুরি ভিত্তিতে টাকা পাঠান’—এমপিদের নম্বর হ্যাক করে প্রতারণা ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে : হাইকোর্টের রায় ‘অ্যাটর্নি জেনারেল আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন’: সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন ২৯ অক্টোবর ডেঙ্গু চিকিৎসায় সব হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক-সরঞ্জাম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জালিয়াতির অভিযোগের মধ্যে ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ৪১ ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের নিবন্ধন স্থগিত মহাখালীতে পুরোনো ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ারের ৩ ইউনিট প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ফিরোজার পরিবারকে গাভি দিল উপজেলা প্রশাসন

বিরোধী দলের আপত্তি ও সমালোচনার মধ্যেই কণ্ঠভোটে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’ অনুমোদন
র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে পাস

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিরোধী দলের আপত্তি ও সমালোচনার মধ্যেই বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিলটি ভোটে দেন। এতে সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়।

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বুধবার কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে বিলটির বিভিন্ন ধারার বিষয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সাতটি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি জানানো হয়।

পরে সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিরোধী দলের অন্য সদস্যরা এর বিরোধিতা করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শুধু র‍্যাবের নাম পরিবর্তন করে একই ধরনের বাহিনী গঠন করলে জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। এ কারণে আইনটি পাস না করার পক্ষে অবস্থান নেন তিনি।

বিরোধী দলের আপত্তিতে আরও বলা হয়, র‍্যাব বিলুপ্তির পর পর্যাপ্ত জাতীয় পরামর্শ এবং কার্যকর ও স্বাধীন জবাবদিহি ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে এসআরবি ভবিষ্যতে র‍্যাবের নতুন রূপে পরিণত হতে পারে।

তারা রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচারক, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার দাবি জানান। একই সঙ্গে র‍্যাবের পুরোনো নথি, গুম-সংক্রান্ত আলামত ও রেকর্ড সরাসরি নতুন বাহিনীতে স্থানান্তরের আগে আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত ও সংরক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রমাণ নষ্ট বা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকে।

### এসআরবির কাঠামো ও নেতৃত্ব

পাস হওয়া আইনের ৪ ধারায় বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের কথা বলা হয়েছে। এর সদর দপ্তর হবে ঢাকায়।

সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন অথবা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এসআরবি গঠন করা হবে। বাহিনীর প্রধান হিসেবে থাকবেন একজন মহাপরিচালক। তিনি পুলিশের অন্তত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা হবেন।

মহাপরিচালক এসআরবির প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা রাখবেন।

### যেসব অপরাধ মোকাবিলায় কাজ করবে এসআরবি

আইনের ১০ ও ১২ ধারায় এসআরবির দায়িত্ব ও ক্ষমতার বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষা ছাড়াও সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ, গুম, ভূঁইফোড় ভূমিদস্যুতা, মানবপাচার ও মাদক দমনে ইউনিটটি কাজ করবে।

গ্রেপ্তার ও তল্লাশি পরিচালনা এবং আলামত জব্দের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তি বা জব্দ করা আলামত এসআরবির নিজস্ব হেফাজতে রাখা যাবে না। আইন অনুযায়ী সেগুলো দ্রুত নিকটবর্তী থানার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

এ ছাড়া সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার এসআরবি কর্মকর্তারা আদালত, সরকার অথবা পুলিশ প্রধানের নির্দেশনায় নির্ধারিত অপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত করতে পারবেন।

### সদস্যদের জন্য শাস্তির বিধান

নতুন আইনে এসআরবির সদস্যদের শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য বিভিন্ন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা, মদ্যপ অবস্থায় থাকা, বেআইনি দখলদারি, হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ওপর নির্যাতন বা বেআইনি বলপ্রয়োগ, অপরাধে প্ররোচনা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ অমান্য করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে বরখাস্ত, পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর বা বেতন-ভাতা বাজেয়াপ্তের মতো শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি তিরস্কার ও জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ এবং বাহিনীর অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধানও রয়েছে।

### র‍্যাবের সম্পদ ও নথির কী হবে

আইনে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত সামাজিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় অপরাধের ধরন ও নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর ভূমিকা রাখতে আধুনিক ও দক্ষ একটি বিশেষায়িত বাহিনী প্রয়োজন।

র‍্যাব বিলুপ্ত করে স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এসআরবি গঠনের কথা বলা হয়েছে। আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‍্যাব-সংক্রান্ত আগের সব বিধান বাতিল বলে গণ্য হবে।

একই সঙ্গে বিলুপ্ত র‍্যাবের সব সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, তহবিল ও নথি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসআরবির কাছে ন্যস্ত হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি