বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। এ-সংক্রান্ত রুল খারিজ করে আদালত গ্রামীণ কল্যাণের বিরুদ্ধে এনবিআরের কর দাবিকে বহাল রাখেন।
মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত পাঁচ করবর্ষের কর দাবি নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট আবেদন করে। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেছিলেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার নতুন বেঞ্চ সেই রুল খারিজ করে দেন।
এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত ৪ অক্টোবর গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দেওয়ার বিষয়ে দেওয়া একটি রায় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল হাইকোর্ট। বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের বেঞ্চ ওই রায় প্রত্যাহার করেন। একই সঙ্গে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। পরে মামলাটি নতুন বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানো হয়।
এনবিআরের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুস সামাদ আজাদ জানান, গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকমের মধ্যে একটি চুক্তি ছিল। ওই চুক্তি অনুযায়ী, গ্রামীণ টেলিকম গ্রামীণ কল্যাণকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিপরীতে গ্রামীণ কল্যাণকে অর্জিত ডিভিডেন্ডের ৪২.৫০ শতাংশ প্রফিট দেওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত ছিল।
পরে আয়কর কর্তৃপক্ষ গ্রামীণ কল্যাণের নথি পুনরায় পর্যালোচনা করে দেখতে পায়, গ্রামীণ টেলিকম থেকে পাওয়া ওই প্রফিটের ওপর উৎসে কর কর্তন করা হয়নি। এরপর বিষয়টি পুনরায় খোলা হয় এবং কমিশনার অব ট্যাক্সেসের কাছে রিভিশন করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছিল।
দীর্ঘ শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রুল খারিজ হওয়ায় রায়টি কর বিভাগ তথা সরকারের পক্ষে গেছে বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।
তিনি বলেন, এর ফলে গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে আইন অনুযায়ী ৬৬৬ কোটি টাকা আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে কর বিভাগ যথাযথভাবে ডিমান্ড নোটিশ জারি করবে।
রিট খারিজের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এ করসংক্রান্ত বিরোধে এনবিআরের দাবিকৃত অর্থ আদায়ের আইনি পথ আরও স্পষ্ট হলো।