ময়মনসিংহে দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকা এক বৃদ্ধা হত্যা মামলার জট খুলেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে মূল অভিযুক্ত মো. রনি মিয়া (২৬)কে গ্রেফতার করেছে সংস্থাটি।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। পিবিআই জানায়, ঘটনাটি মূলত একটি সামান্য আর্থিক বিরোধ থেকেই ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ জানুয়ারি ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানা এলাকার মীরকান্দাপাড়া গ্রামে। ওইদিন একা বসবাসরত নূরজাহান (৬০) নিজ বাড়িতে নির্মমভাবে খুন হন। দুই দিন পর, ৩০ জানুয়ারি রাতে বাড়ির পাশে খড়ের নিচে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনরা। পরে তার মেয়ে বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
তদন্তে উঠে আসে, একই এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি রনি মিয়া মাঝে মাঝে তার প্রেমিকাকে নিয়ে নূরজাহানের বাড়িতে থাকতেন এবং প্রতিবার ৫০০ টাকা করে ভাড়া দিতেন। সর্বশেষ ভাড়া পরিশোধ না করায় দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
পিবিআই জানায়, ঘটনার রাতে পাওনা টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিষয়টি প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেন নূরজাহান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে ঘরে থাকা শিল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ রান্নাঘরের পাশে খড়ের নিচে লুকিয়ে রেখে তার মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
মামলাটি তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইয়ের একটি বিশেষ দল অমিতাভ দাসের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে গত ২ মে ভোরে শম্ভুগঞ্জ এলাকা থেকে রনি মিয়াকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, “মাত্র ৫০০ টাকার বিরোধে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।” তিনি জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।