প্রথমে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার পেছনে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন চিত্র। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাসী আলমগীর হোসেন (৪০) হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে তার স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১ মে) উপজেলার উত্তর পদুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৫) ও ছেলে রাকিব (১৮)-কে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ধামা-দা উদ্ধার করে পুলিশ। আদালতে নেওয়ার পর তারা জবানবন্দিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশ জানায়, আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তার প্রথম স্ত্রী রহিমা বেগমের দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য বিরোধ চলছিল। দ্বিতীয় বিয়ের পর ২০০৭ সাল থেকেই সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। কয়েক মাস আগে তিনি দেশে ফিরে আবার পরিবারসহ বসবাস শুরু করলে পুরোনো দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়।
ঘটনার দিন ২৮ এপ্রিল রাতে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে আলমগীর স্ত্রীর মোবাইল ভেঙে দেন এবং দা দিয়ে ভয় দেখান বলে জানা গেছে। এরপর ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে—রহিমা বেগম ও তার ছেলে ঘরে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর তারা দাবি করেন, বাড়ির বাইরে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা আলমগীরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তবে পুলিশের কাছে তাদের বক্তব্যে অসামঞ্জস্য ধরা পড়লে তদন্তের দিক বদলে যায়।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদ জানান, শুরু থেকেই ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ফরেনসিক তথ্য ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে মা-ছেলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন।
উল্লেখ্য, ২৮ এপ্রিল আলমগীর হোসেনের মরদেহ তার বাড়ির বাইরে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে সন্ত্রাসী হামলার ধারণা থাকলেও তদন্তে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসে।