দেশের ৬৪ জেলা থেকে প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশকে নিয়ে আগামী ৭ নভেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে মহাসমাবেশ আয়োজন করতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠেয় এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দীন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মহাসমাবেশের প্রস্তুতি ও আয়োজন নিয়ে মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ৬৪ জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে গ্রাম পুলিশের সদস্যদের সম্মান জানানো এবং তাঁদের বক্তব্য ও দাবি সরাসরি শোনার জন্য এ মহাসমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। এর আগে গ্রাম পুলিশ নিজস্ব অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরলেও এবার প্রধানমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান।
গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আইনি ক্ষমতা জোরদারের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালকদের (ডিডিএলজি) আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এসব সুপারিশের ভিত্তিতে একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। পরে মহাসমাবেশে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও বক্তব্য
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার ও স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক, সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর গ্রামাঞ্চলের মানুষ যেন আনন্দমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরিতে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি। নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হলে তার দায় সরকার নেবে না বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত কর্মসূচি
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অন্যতম দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে বুধবার থেকে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাপকভাবে মাইকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত অভিযান শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে। এসব কর্মসূচিতে বিএনসিসি, স্কাউটস, রোভার স্কাউটস, গার্ল গাইডস, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেবেন।