1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৫ অপরাহ্ন

হালুয়াঘাটে এক মিনিটের ঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মাত্র এক মিনিটের তীব্র ঝড়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ধুরাইল ইউনিয়নের পশ্চিম পাবিয়াজুরী ও গোরকপুর এলাকায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হালুয়াঘাটের ওই দুই এলাকায় আকস্মিকভাবে ঝড় শুরু হয়। একই সময়ে পাশের শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মরিচপুরান ও মাথাফাটা এলাকাতেও ঝড় বয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রথমে আকাশে বিদ্যুৎ চমকানো ও বজ্রপাতের পর হঠাৎ প্রবল বাতাস শুরু হয়। প্রায় এক মিনিটের মধ্যেই বিভিন্ন এলাকার ছোট-বড় গাছ উপড়ে যায় এবং অনেক ঘরের টিনের চালা উড়ে যায়।

গোরকপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের বসতঘর ও রান্নাঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘরের টিনের চালা উড়ে প্রায় ১০০ গজ দূরে গিয়ে পড়ে। ঝড়ে তাঁর ধানের মাচাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শফিকুল ইসলাম অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান। তিনি বলেন, অনেক কষ্টে নতুন ভিটায় ঘর নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক ঝড়ে ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন মাথা গোঁজার জায়গা নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। তাঁর বিদ্যুতের মিটারও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

ঝড়ে গোরকপুর এলাকার বিধবা রাহিলার বসতঘরও ভেঙে গেছে। তিনি জানান, স্বামী না থাকায় কষ্টে সংসার চালাতে হয়। ঝড়ে ঘর হারিয়ে তিনি সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।

পশ্চিম পাবিয়াজুরীতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন রুবেল। ঝড়ের সময় তাঁর ঘরের চাল উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভেঙে পড়া খুঁটির নিচে চাপা পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান তাঁর স্ত্রী রেনুয়ারা।

গোরকপুর বাজারে হেলাল উদ্দিনের দোকানও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই এলাকার আজি রহমানের বসতঘর ও গোয়ালঘরের চারটি চালা নষ্ট হয়েছে। গোয়ালঘরের একটি গরুর পা কেটে গেছে এবং তাঁর দুই ছেলে আহত হয়েছেন।

ঝড়ের প্রভাব পড়েছে গোরকপুর উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া বিভিন্ন সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পশ্চিম পাবিয়াজুরীর সুমন চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে গোরকপুর সড়কের বিভিন্ন অংশে পড়ে থাকা গাছ স্থানীয়রা সরানোর চেষ্টা করছেন।

বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গোরকপুর এলাকায় তিনটি ট্রান্সফরমার ও কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঝড়ের পর থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা কামালের দাবি, পশ্চিম পাবিয়াজুরী ও গোরকপুরে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত প্রশাসনিক সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ঝড়ের খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেলের একটি প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে। ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের পক্ষ থেকেও একটি প্রতিনিধি দল সেখানে যায়।

প্রতিনিধি দলের সদস্য ক্বারী আলমাছ উদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর হালুয়াঘাটের ডিজিএম মাহমুদুল হাসান মুন্নার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ জানান, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর তাঁরা পেয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতি সরেজমিনে দেখতে একটি টিম পাঠানো হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝড়ের পরও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি