সারা বিশ্বে একই দিনে রোজা ও ঈদ উদযাপনের দাবি শরিয়তসম্মত ও বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক।
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে তিনি এ বক্তব্য দেন। ‘রোজা ও ঈদ বিশ্বব্যাপী একই দিনে পালনের দাবির বাস্তব নিরসন ও শরয়ি বিশ্লেষণ’ শীর্ষক ওই সেমিনারের আয়োজন করে দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ।
প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে মুফতি আবদুল মালেক বলেন, ইসলামি শরিয়তে নতুন মাস শুরু হওয়ার ভিত্তি হলো চাঁদ দেখা বা গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্যের মাধ্যমে হেলাল প্রমাণ হওয়া। তা সম্ভব না হলে মাস ৩০ দিন পূর্ণ করতে হয়। তিনি বলেন, এই বিধান বাদ দিয়ে অমাবস্যা বা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ওপর ভিত্তি করে মাস গণনা করা শরিয়তের নির্ধারিত পদ্ধতির বাইরে চলে যাওয়ার শামিল।
তার ভাষ্য, আগাম তৈরি করা লুনার ক্যালেন্ডারকে একমাত্র মানদণ্ড বানানোও শরিয়তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি এটিকে ‘নতুন শরিয়ত প্রবর্তনের চেষ্টা’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, মুসলমানদের ঈদ কেবল সামাজিক উৎসব নয়; এটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের অংশ। তাই একে অন্য জাতির উৎসবের আদলে একীভূত করার প্রচেষ্টা সঠিক নয়।
বিশ্বের এক অঞ্চলে চাঁদ দেখা গেলে সব দেশে একই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার বিষয়েও আপত্তি জানান তিনি। তার মতে, এ ধরনের ধারণা উম্মাহর ঐতিহ্যগত ঐকমত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মুফতি আবদুল মালেক বলেন, শরয়ি বিধান নির্ধারণে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতামত চূড়ান্ত নয়। অতীতের মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীরাও বিশ্বব্যাপী একই দিনে রোজা ও ঈদ পালনের পক্ষে অবস্থান নেননি।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত চাঁদ দেখার পদ্ধতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ আলেম-মাশায়েখ এ বিষয়ে ঐকমত্যে রয়েছেন। তাই প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তনের যৌক্তিক কারণ নেই। বরং এতে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
তিনি জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে চলার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন এ কমিটির সিদ্ধান্ত শরিয়তবিরোধী না হলে তা অনুসরণ করা নাগরিক দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মুফতি মাহমুদুল হাসান। এতে বিভিন্ন ইসলামি চিন্তাবিদ ও শীর্ষ আলেমরা অংশ নেন।