ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশি সন্দেহে সীমান্ত দিয়ে পুশইনের শিকার হওয়া চার ভারতীয় নাগরিক অবশেষে নিজ দেশে ফিরেছেন। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় ও ট্রাভেল পাসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রায় এক বছর পর বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে তাদের ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হস্তান্তর হওয়া চারজন হলেন— ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মুরারাই থানার ধিতরা গ্রামের সুইটি বিবি, তার দুই ছেলে কুরবান শেখ (১৭) ও ইমাম দেওয়ান (৬), এবং পাইকোর থানার পাইকোর গ্রামের দানিশ শেখ।
সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই জামিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে চার ভারতীয় নাগরিককে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় রাজশাহীতে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের দুই প্রতিনিধি, বিজিবি ও বিএসএফের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, ‘দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমঝোতার ভিত্তিতে চার ভারতীয় নাগরিককে নিজ দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর দানিশ শেখের স্ত্রী সোনালী বিবি ও তাদের এক শিশুসন্তানকে ভারতে পাঠানো হয়েছিল। দিল্লির সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অন্তঃসত্ত্বা সোনালী বিবি ও তার সন্তানকে গ্রহণ করলেও দানিশ শেখসহ বাকি চারজনকে সে সময় নেয়নি। পরে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে তাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।
জানা যায়, গত বছরের ২০ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আলীনগর এলাকা থেকে ওই ছয় ভারতীয় নাগরিককে আটক করে পুলিশ। দুই শিশুকে বাদ দিয়ে বাকি চারজনের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগে পাসপোর্ট আইনে মামলা করা হয়। পুলিশের কাছে তারা দাবি করেছিলেন, ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও দিল্লি পুলিশ তাদের আটক করে বাংলাদেশি মনে করে কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়।
বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দুই দেশেই ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে সোনালী বিবির বাবার করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত ছয় ভারতীয় নাগরিককে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার আলোকে প্রথম দফায় সোনালী বিবি ও তার সন্তান ভারতে ফিরলেও আদালতে মামলা চলমান থাকায় বাকি চারজনের দেশে ফেরা বিলম্বিত হয়। সম্প্রতি ট্রাভেল পাসের অনুমোদন পাওয়ার পর তাদেরও দেশে ফেরানো সম্ভব হয়েছে।
মামলায় প্রায় তিন মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে চার ভারতীয় নাগরিক চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নয়াগোলা গাইনপাড়ার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের জিম্মায় বসবাস করছিলেন। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় তাদের খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছিল। অবশেষে প্রায় এক বছর পর নিজ দেশে ফিরে যেতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেন তারা।