জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, উসকানি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল, অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ গ্রহণ করেন।
একই আদেশে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অন্য মামলায় কারাগারে থাকা আসামিদের এ মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে আগামী ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্ত আটজন হলেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল, অধ্যাপক আ. ক. ম. জামাল উদ্দীন, সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন এবং সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত।
রোববার ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পড়ে শোনান প্রসিকিউটর এসএম মইনুল করিম।
শুনানি শেষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের নির্দেশনা ও পরামর্শে এবং পরবর্তী সময়ে তাদের নির্দেশ ও সহযোগিতায় অন্যদের মাধ্যমে পাঁচজনকে হত্যা এবং অসংখ্য মানুষকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলাটির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে নিহত পাঁচজন হিসেবে মো. শাহজাহান, খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ, সাইফুল ইসলাম শোভন, আব্দুল ওয়াদুদ ও শাওন শিকদারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকা আসামিদেরও এ মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালের সামনে হাজির করা হবে।
মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রম ২২ অক্টোবরের হাজিরাকে কেন্দ্র করে এগোবে।