1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া কৃষক কার্ডে মোবাইলেই মিলবে আবহাওয়ার আগাম বার্তা সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হলেন বিএনপির এলিজা জামান বিকাশ-নগদ-রকেটের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ নিয়ে হাইকোর্টে শুনানি আগামীকাল সীমান্তের ওপারের ইশারায় দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রামবাসীর উদ্যোগে খেলার মাঠ, বাকি জমি কিনতে সাড়ে ৪ কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন মিরপুরে ফের সড়কে নামার চেষ্টা পোশাকশ্রমিকদের, পুলিশের ধাওয়া হাসপাতালে মোস্তফা জামাল হায়দারকে দেখতে গেলেন রাষ্ট্রপতি জামালপুরে কৃষক লীগ নেত্রী পুতুল রাণী গ্রেপ্তার

কৃষক কার্ডে মোবাইলেই মিলবে আবহাওয়ার আগাম বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

 

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস পাবেন দেশের কৃষকরা। স্বয়ংক্রিয় এসএমএসের মাধ্যমে স্বাভাবিক সময়ে প্রতি ছয় ঘণ্টা পরপর এবং দুর্যোগকালীন সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার পাঠানো হবে আবহাওয়ার বার্তা।

সরকারের কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় এ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের পাশাপাশি কৃষি উপকরণ সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ, সেচ সুবিধা ও কৃষি বীমাসহ মোট ১০ ধরনের সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী চার বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

আগাম সতর্কবার্তায় সুবিধা পাবেন কৃষকরা

বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন অনেকাংশেই আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অতিবৃষ্টি, খরা, তাপমাত্রার পরিবর্তন ও ঝড়ের কারণে প্রায়ই ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে সময়মতো আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেলে কৃষকরা চাষাবাদ ও ফসল ব্যবস্থাপনায় আগাম সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

কৃষক কার্ডধারীদের মোবাইল ফোনে সরাসরি এসএমএসের মাধ্যমে আবহাওয়ার তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ফলে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রার পরিবর্তন কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে সেচ দেওয়া, সার ও বালাইনাশক প্রয়োগ এবং ফসল কাটার সময় নির্ধারণ সহজ হতে পারে।

যেমন, ধান কাটার মৌসুমে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে আগাম সতর্কবার্তা পেয়ে কৃষকরা দ্রুত ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিতে পারবেন। একইভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাস বিবেচনায় সেচের পরিকল্পনা করলে পানি ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। ঝড় বা অন্য প্রতিকূল আবহাওয়ার সতর্কবার্তা কৃষকদের ফসল ও কৃষি উপকরণ সুরক্ষায় প্রস্তুতি নিতেও সহায়তা করবে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)। কৃষি বিষয়ে তথ্য, পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় স্বয়ংক্রিয় এসএমএসের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস সরবরাহ করবে।

চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য

কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডারের আওতায় এনে সরকারি কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের জন্য সরকারি সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ লক্ষ্যে কৃষকদের ব্যক্তিগত ও কৃষিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কার্যক্রম চলছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার মধ্যে ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম এগিয়েছে। এসব ব্লকে এখন পর্যন্ত ২২ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত ৯ লাখ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।

গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি উপকরণ সহায়তার জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক।

প্রাক-পাইলটিংয়ে কার্ড পেয়েছেন ২০ হাজারের বেশি কৃষক

চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় আট বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়।

এ পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়।

প্রকল্পের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মো. রাকিবুজ্জামান খান বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও তাঁদের চাহিদা নিরূপণের মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়নে সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে উঠলে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন বলেন, কর্মসূচিটির মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সহজ ও কার্যকর করা। এ জন্য তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা ও পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কাজ সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষকদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাঠানোর উদ্যোগ সমন্বিত সেবাব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। সময়মতো তথ্য পেলে কৃষকরা চাষাবাদ, ফসলের পরিচর্যা, সেচ ব্যবস্থাপনা, সার প্রয়োগ ও ফসল সংগ্রহের বিষয়ে পরিকল্পনা সাজাতে পারবেন এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও কৃষি ব্লককে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্প।

সূত্র: বাসস

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি