ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একের পর এক চুরির অভিযোগ তুলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিএনপি সরকারের সমালোচনা করা নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার জামিন পেয়েছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহের ষষ্ঠ আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলাম ৫০০ টাকার বন্ডে নিজ জিম্মায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মোস্তাছিনুর রহমান।
৩০ বছর বয়সী সাথী আক্তার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। তিনি আমজাদ আলীর মেয়ে এবং ‘সাথী বিউটি পার্লার’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দুই দিন পর বুধবার তিনি জামিন পেলেন।
এর আগে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভের ভিডিও পর্যালোচনা করে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী বক্তব্যের বিষয়ে জানতে গেলে তিনি তাঁদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন বলে জানান ওসি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁকে ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছিল বলে পুলিশের ভাষ্য।
ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে। ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একাধিক চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাথী আক্তার। তাঁর অভিযোগ, সম্প্রতি তাঁর দুটি শোরুম এবং আশপাশের কয়েকটি দোকানের বিদ্যুতের তার ও এসির তার চুরি হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বাসা থেকেও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়। এসব ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলেও লাইভে জানান তিনি।
চুরির ঘটনা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে ভোট দেওয়া নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেন সাথী আক্তার। একই সঙ্গে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। পরে লাইভের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
ওই দিন রাত ৮টার দিকে ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় একদল উত্তেজিত জনতা ও রাজনৈতিক কর্মী তাঁর পার্লারে গিয়ে বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চান। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পার্লারে ভাঙচুরের আশঙ্কায় স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সাথী আক্তারকে হেফাজতে নেয়।
ফেসবুক লাইভে চুরির অভিযোগ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পর স্থানীয় উত্তেজনা, পুলিশের হেফাজতে নেওয়া এবং কারাগারে পাঠানোর ঘটনা পেরিয়ে বুধবার জামিন পেলেন এই নারী উদ্যোক্তা।