বাগেরহাটে এবার বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডক্টর ফরিদুল ইসলামের অনুষ্ঠানে ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. এ এস মো. মাহবুবুল আলম। এর আগে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের একটি প্রশাসনিক বৈঠকে বারবার ফোন ব্যবহারের কারণে তাঁকে ধমক খেতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিএনপির প্রয়াত নেতা সাদেক হোসেন খোকার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মনিরুল ইসলাম সিভিল সার্জনের ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। সেখানে তিনি বাগেরহাটের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরানোর আহ্বান জানান।
মনিরুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় ‘আমাদের গ্রাম ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ক্যান্সার স্ক্রিনিং ও মূল্যায়ন সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ডক্টর ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সমাজসেবা বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ক্যান্সার বিষয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর চিকিৎসকেরা উপস্থাপনা দেন। মনিরুল ইসলামের ভাষ্য, সামনের সারিতে বসা একজনকে বারবার ঘুমিয়ে পড়তে দেখা যায়। পরে তিনি ওই ব্যক্তিকে সিভিল সার্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফেসবুক পোস্টে মনিরুল ইসলাম লেখেন, জেলার হাসপাতালগুলোর দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার এমন অবস্থা দেখে অনেকে তাঁর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে সিভিল সার্জনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার এবং তাঁর পরিবর্তে কর্মোদ্যমী কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানান।
সিভিল সার্জন মাহবুবুল আলমকে ঘিরে বাগেরহাটে আরও কিছু বিতর্কের কথা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। কালবেলা, ডিবিসি ও যমুনা টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মাহমুদুল হাসান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়া এমবিবিএস পরিচয়ে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠে আসে। ওই ব্যক্তিকে রোগী দেখার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সিভিল সার্জনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান শিমুলের প্রশ্রয়ে ওই ব্যক্তি বাগেরহাটে রোগী দেখতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর শিমুল সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালান এবং তাঁদের চাঁদাবাজ বলে আখ্যা দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কালবেলা ও ডিবিসি নিউজের প্রতিবেদন প্রকাশের পরও ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে যমুনা টেলিভিশনে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওই ব্যক্তি বাগেরহাট ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সিভিল সার্জনের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সিভিল সার্জনের ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনা এবং তাঁর দায়িত্ব পালন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।