1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মমেকের ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ১৩০ রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা সরকার-বিরোধী দলের ন্যূনতম ঐক্য না থাকলে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে: রিজভী জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি ৯ লাখ টাকায় আপসের দাবি, কিশোরের জামিন আবেদন নেত্রকোণার ৪৭ নেতাকর্মীকে নিজ খরচে ওমরাহে পাঠালেন লুৎফুজ্জামান বাবর হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে এক রাতে আটক ৬২৪ আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির রাজধানীতে সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার হাতিয়ায় ‘রাজা ইলিশ’ বিক্রি ১০ হাজার ৯০০ টাকায়

মমেকের ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ১৩০ রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। ৫০ শয্যার ওয়ার্ডটিতে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন ১৩০ জন।

শয্যা সংকটে রোগীদের ওয়ার্ডের মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে ওয়ার্ডের ভেতরে চলাচলের জায়গাও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, শুরুতে মাত্র ২৪ শয্যা নিয়ে ডেঙ্গু ওয়ার্ডের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর শয্যা বাড়িয়ে ৫০টি করা হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই সক্ষমতার প্রায় তিন গুণ রোগী ভর্তি রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ভর্তি ১৩০ রোগীর মধ্যে ৮২ জন পুরুষ, ৩৮ জন নারী এবং ১০ জন শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ৭৬ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৭০৬ জন। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৫১ জন। এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের; তাদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে চলতি সেপ্টেম্বরেই।

এরই মধ্যে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ময়মনসিংহ নগরের রামবাবু রোড এলাকার খেলন সরকার (৬৫)। তিনি ২১ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে তার মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালের মেঝেতেও চলছে রোগীর চিকিৎসা। গৌরীপুরের নপই গ্রামের শরিফুল ইসলাম ওরফে বিল্লাল (২৫) গত ২১ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন। গাজীপুরের কোনাবাড়ীর একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত শরিফুলের পাশে বৃহস্পতিবার দুপুরে মেঝেতে মাদুর পেতে বসে ছেলের মাথায় জলপট্টি দিতে দেখা যায় তার মা শিরিনা আক্তারকে।

শিরিনা আক্তার জানান, ১০ থেকে ১২ দিন জ্বর থাকার পর পরীক্ষায় ছেলের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। চিকিৎসার পেছনে এরই মধ্যে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, যা স্বজনদের কাছ থেকে ধার করে জোগাড় করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহ নগরের গোহাইলকান্দি এলাকার তৌহিদুল ইসলাম (২২) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বুধবার হাসপাতালে ভর্তি হন। বারান্দার মেঝেতে ছেলের পাশে অবস্থান করছিলেন তার বাবা ইমামুল ইসলাম।

ইমামুল ইসলাম বলেন, প্রথমে চার দিন ধরে জ্বর, বমিভাব ও শরীরব্যথা ছিল। বাড়িতে প্যারাসিটামল খাওয়ানোর পরও দুর্বলতা বাড়লে হাসপাতালে এনে পরীক্ষা করানো হয়। পরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। বর্তমানে তার ছেলের প্লাটিলেট ৬৬ হাজারে নেমে গেছে।

ডেঙ্গু ওয়ার্ডের সহকারী ফোকাল পারসন মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ময়মনসিংহ শহর থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে আসছেন। পাশাপাশি আশপাশের জেলা, উপজেলা ও গ্রামের রোগীরাও চিকিৎসা নিতে আসছেন। বেশিরভাগ রোগীর জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথা রয়েছে। অনেকের ক্ষেত্রে পাতলা পায়খানা, বমি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও খাবারে অরুচির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সীমিত জনবল ও জায়গার মধ্যেই নির্ধারিত শয্যার প্রায় তিন গুণ রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তবে আতঙ্কের কারণে অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, যাদের একটি অংশ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিতে পারেন।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি