সোনালী ব্যাংক পিএলসির কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘর শাখার ক্যাশ অফিসার ফৌজিয়া হককে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রকাশ্যে তাকে মানসিকভাবে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
সংগঠনটির বক্তব্য, ব্যাংকে কোনো অনিয়ম, গ্রাহকের অর্থের হিসাবের অসঙ্গতি কিংবা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগকে তারা সমর্থন করে না। তবে এমন অভিযোগ উঠলে তা প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম মেনে তদন্ত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫ লাখ টাকা জমা দেওয়ার ঘটনায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা কম থাকার বিষয়টি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট ব্যাংকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অতিরিক্ত গ্রাহকচাপের কারণে ভুলবশত এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সিসিটিভি ফুটেজ, ক্যাশ হিসাব, লেনদেনের রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ।
সংগঠনটি বলেছে, অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকারের পেশাগত ও সামাজিক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
একই সঙ্গে সংগঠনটি তদন্তের বিষয়টির সঙ্গে জনসমক্ষে একজন ব্যাংকারকে হেনস্থাকে এক করে না দেখার আহ্বান জানিয়েছে। সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা বলেছে, ব্যাংকের নিয়ন্ত্রিত বা সংবেদনশীল এলাকায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ, কর্মরত কর্মকর্তার কাজে হস্তক্ষেপ কিংবা অনুমোদন ছাড়া ভিডিও ধারণের সুযোগ থাকা উচিত নয়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক কী অনুমতিতে ব্যাংকে প্রবেশ করেছেন এবং ভিডিও ধারণের অনুমোদন ছিল কি না, প্রয়োজন হলে সেটিও যাচাই করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদের বক্তব্য, অনিয়মের অভিযোগের বিচার হতে পারে, কিন্তু কোনো ব্যাংকারকে হেনস্থা করা গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের মতে, অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হবে তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং সংশ্লিষ্ট সবার অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।