ভালুকা থেকে নারায়ণগঞ্জে ফেরার পথে বাসে তুলে এক যাত্রীকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে ময়মনসিংহে একটি চক্রের মূলহোতাকে আটক করেছে র্যাব-১৪। উদ্ধার করা হয়েছে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমকে। তাঁর পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে ময়মনসিংহের দিঘারকান্দা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে বাসটি থামানো হয়। এ সময় বাসে থাকা চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেলেও জাবেদ ইকবাল ওরফে ‘বিহারি বাদল’কে আটক করা হয়।
পরে বাসে তল্লাশি চালিয়ে ধারালো ছুরিসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, আটক জাবেদ ইকবাল বাদল ময়মনসিংহ নগরীর পাটগুদাম মদের ডিপো এলাকার বাসিন্দা। বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে ১০টির বেশি ডাকাতির মামলা রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাসটিকেই চলমান আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করত চক্রটি। যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পর কাউকে কাউকে জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হতো।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম জানান, শুক্রবার অফিসের কাজ শেষ করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জে ফেরার জন্য ভালুকা মহাসড়কের পাশে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি বাস তাকে যাত্রী হিসেবে তুলে নেয়।
কিছুদূর যাওয়ার পর বাসে থাকা ব্যক্তিরা অন্য যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা কেড়ে নেন। পরে তাদের রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে জাহাঙ্গীরকে বাসের ভেতরে আটকে রাখা হয়।
তার ভাষ্য, বাসের জানালার পর্দা টেনে তার হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়। জীবন বাঁচানোর আশায় স্বজনদের মাধ্যমে বিকাশে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাঠান তিনি। কিন্তু এরপরও আরও অর্থ দাবি করতে থাকে চক্রটি।
একপর্যায়ে নারায়ণগঞ্জের দিকে না গিয়ে বাসটি আব্দুল্লাহপুর ঘুরে আবার ময়মনসিংহের দিকে রওনা হলে বিষয়টি স্বজনদের জানান জাহাঙ্গীর। খবর পেয়ে তার ছোট ভাই শাহারুল দ্রুত র্যাবের সহায়তা চান।
র্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর মুক্তিপণের টাকা পাঠানো মুঠোফোনের অবস্থান এবং বাসটির গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। এরপর ত্রিশাল ও দিঘারকান্দা এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়।
শেষ পর্যন্ত দিঘারকান্দায় বাসটি থামিয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার এবং চক্রটির মূলহোতা জাবেদ ইকবাল বাদলকে আটক করা হয়। পালিয়ে যাওয়া অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।