মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে অচেতন অবস্থায় ঢাকার রাস্তায় দেখা যাওয়া সেই তরুণীকে শনিবার (২৯ আগস্ট) টঙ্গী থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে পুলিশ। তরুণীর বোন এবং দুলাভাইসহ তারা এখন থানায় আছেন। এর আগে জানা যায়, ওই তরুণী উত্তরার একটি বারে মদপানের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের দিকে একটি বাইকে ২৬ বছর বয়সী ওই তরুণীকে দুই যুবকের সঙ্গে রাস্তায় দেখা যায়। ওমরাহ সফর শেষ করে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত একটি মোটরসাইকেলকে অনুসরণ করেন।
তিনি দেখতে পান, মোটরসাইকেল চালকের পেছনে বসা এক যুবক এক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছেন। তরুণীটির পা দুটি খালি ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে নিথর হয়ে ঝুলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, ‘জাগ্রত বা জীবন্ত মানুষের এমনভাবে পা ঝোলার কথা না।’ এতে মেয়েটি মৃত নাকি অচেতন ছিলেন, তা নিয়ে তাঁর মধ্যে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়।
এই দুই যুবক ও তরুণীর সর্বশেষ অবস্থা জানতে বৃহস্পতিবার দিনভর নানা মাধ্যমে অনুসন্ধান চালায় কালবেলা। নম্বর প্লেটের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সংস্থার সূত্র জানায়, মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে। পাশাপাশি দুটি মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়। এর একটির শেষ তিন সংখ্যা ১৫২। নম্বরটি এক শোরুম মালিকের।
তবে তিনি দাবি করেন, ওই মোটরসাইকেলটি তার শোরুম থেকে বিক্রি হয়নি এবং কীভাবে তার নম্বর সেখানে গেল, তা তিনি জানেন না। অন্য একটি নম্বর দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ পাওয়া যায়।
মোটরসাইকেল মালিকের বাড়ি আব্দুল্লাহপুর হলেও যিনি চালকের আসনে ছিলেন তার বাড়ি রাজেন্দ্রপুর। নামের শেষাংশে ‘আলম’।
বাইকে থাকা তরুণীর বড়বোনের স্বামী কালবেলাকে বলেন, ‘মিতু (ছদ্মনাম) কখনো ড্রিংকস করে নাই। সেদিন আমরা স্বামী-বউ ঝগড়া করছিলাম। এটা দেখে ও রাগ কর চলে যায়। তারপর ওই ছেলের সঙ্গে হয়তো ড্রিংকস করে। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে ছেলেগুলো বাসায় দিয়ে যায়।’
খোরশেদ তার স্বামী কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিয়ে করবে বলে শুনেছি।’
এই তরুণী আগে দুটি বিয়ে করেছেন। তার সাবেক এক স্বামী তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ করেছেন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেসব যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ওই তরুণী শুক্রবার ফোনে বেশি সময় কথা বলতে চাননি। এখন ভালো আছেন, আর দেখা করে বিস্তারিত জানাবেন, এতটুকু বলেই ফোন কেটে দেন।
তার বড় বোনের স্বামী দাবি করেন, বারে অসুস্থ হওয়ার পর আলম আর তার বন্ধু মেয়েটিকে নিয়ে টঙ্গীতে তার বাসায় আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই অবস্থায় টঙ্গীতে না গিয়ে তারা মিরপুর ফিরে যান। সেখানে এক বান্ধবীর বাসায় তাকে রেখে বোনকে ফোন দেন আলম।
সংবাদ: কালবেলা