নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে হাজী মতিউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাসবির আহমেদ প্রায় চার বছর ধরে লন্ডনে। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে বসবাস করেও দেশ থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় তার আপন ভাই পারভেজ আহমেদ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
হাজী মতিউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রায় চার বছর ধরে প্রধান শিক্ষক তাসবির আহমেদ স্কুলে আসেন না। তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকই দায়িত্ব পালন করছেন।
বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক প্রায় চার বছর ধরে বিদ্যালয়ে নেই। তিনি বর্তমানে ছুটিতে আছেন কি না, তা আমার জানা নেই। তবে এর আগে তিনি যেসব ছুটি নিয়েছেন, সেগুলো শেষ হয়ে গেছে বলে জানি। এরপরও তিনি কীভাবে এত দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত রয়েছেন, সে বিষয়টি আমার জানা নেই।’
তিনি আরও জানান, প্রধান শিক্ষক তাসবির আহমেদের বাবা একসময় বিদ্যালয়টির সভাপতি ছিলেন। তিনি মারা গেছেন। তবে প্রধান শিক্ষকের ছুটি বা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদন রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন প্রধান শিক্ষক টানা চার বছর বিদেশে অবস্থান করলে তার ছুটি কীভাবে অনুমোদিত হয়েছে, দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও তিনি কীভাবে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। বিদেশে অবস্থানের পুরো সময়ের জন্য বৈধ ছুটি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে না থাকায় তার ভাই ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক তাসবির আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।
সোনারগাঁও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাঈদুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষক তাসবির আহমেদের লন্ডনে অবস্থানের বিষয়ে তার জানা নেই। তার সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসিফ আল জিনাত জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তার আগে জানা ছিল না। অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।