নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মৃত সজীব মিয়া (৩৫) শহরের মালনী আমগাছতলা এলাকার শুকুর আলীর ছেলে। চিকিৎসকদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, গ্যাসজনিত সমস্যায় বুকে ব্যথা নিয়ে সন্ধ্যায় সজীবকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও বিদ্যুৎ না থাকার অজুহাতে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা যথাযথ চিকিৎসা দেননি। একপর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, সজীবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতালে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে উত্তেজিত কয়েকজন হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মাজহারুল আমিন জানান, সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকলেও জেনারেটরের মাধ্যমে হাসপাতালের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ নিয়ে সজীব হাসপাতালে এলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর উত্তেজিত স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি।