জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখা আলোচিত অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর নামের বানান ভুল লেখার ঘটনায় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানিয়েছে, চিড়িয়াখানার তথ্যফলকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর পরিবর্তে ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’ লেখা নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত গড়ালে কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ-৪ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ডা. মো. আতিকুর রহমানকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সমমান) পদে বদলি করা হয়েছে। তাকে ঢাকাস্থ লিভস্টক, ভেটেরিনারি অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট (এলভিডিডি) রিভাইভড প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে এলভিডিডি রিভাইভড প্রকল্পে কর্মরত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সমমান) ডা. মো. হাবিবুর রহমানকে জাতীয় চিড়িয়াখানা, মিরপুরের নতুন কিউরেটর হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে অবশ্য বদলির কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে জনস্বার্থে এ রদবদল করা হয়েছে বলে বলা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার সময় দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে আসে বিরল অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের গোলাপি-সাদা রঙের মহিষটির মাথার সামনের সোনালি চুল এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে খামারিরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম অনুসারে এর নাম রাখেন। মহিষটি কোরবানির পশুর হাটে ব্যাপক সাড়া ফেলে। পরে দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য ইনডিপেনডেন্ট, এএফপি ও রয়টার্সসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কোরবানির জন্য বিক্রি হওয়া মহিষটিকে দেখতে মানুষের উপচেপড়া ভিড় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয় বিবেচনায় সরকার সেটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ক্রেতাকে অর্থ পরিশোধ করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের মাধ্যমে মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করা হয়।
কিন্তু চিড়িয়াখানায় প্রদর্শনের জন্য তৈরি করা পরিচিতি ফলকে মহিষটির নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর পরিবর্তে ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’ লেখা হয়। দর্শনার্থীদের নজরে আসার পর ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় ব্যাপক হাস্যরস, সমালোচনা ও ট্রল। একপর্যায়ে সমালোচনার মুখে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ নামফলক পরিবর্তন করে। পরে মহিষটির প্রদর্শনী বোর্ডে নাম দেওয়া হয় ‘সাদা মহিষ’।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, একটি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত প্রাণীর নাম সরকারি প্রতিষ্ঠানে এভাবে ভুল লেখা অত্যন্ত বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। বিষয়টি উচ্চপর্যায় পর্যন্ত যায়। এরপর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে কিউরেটরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, প্রজ্ঞাপনে কারণ লেখা না থাকলেও মূল কারণ ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প মহিষের নামের বানান ভুল নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক।