বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রথম থেকে দ্বাদশ নিবন্ধনধারীদের নিয়োগে বৈষম্য দূর করে চাকরির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। একই সঙ্গে নিয়োগসংক্রান্ত চলমান মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি এবং আগের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনটির সভাপতি মো. মনিরুল হক। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রথম থেকে দ্বাদশ নিবন্ধনধারীরা নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন। একাধিকবার আন্দোলন ও আইনি পদক্ষেপ নিয়েও তাঁরা সমস্যার সমাধান পাননি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০০৫ সালে এনটিআরসিএর কার্যক্রম শুরুর পর প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে সনদ প্রদান করত। তখন শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও গভর্নিং বডির হাতে। পরে ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে নিবন্ধন সনদের মেয়াদসংক্রান্ত বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হয়।
সংগঠনটির অভিযোগ, ২০১৬ সালে প্রথম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রায় ৪০ হাজার ইনডেক্সধারী শিক্ষক নিয়োগ পান। নতুন নিয়োগ পান ১০ থেকে ১২ হাজার প্রার্থী, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন ১৩তম ও ১৪তম নিবন্ধনধারী। অন্যদিকে, প্রথম থেকে দ্বাদশ নিবন্ধনধারীদের ভাইভা নম্বর না থাকায় তাঁরা মেধাতালিকায় পিছিয়ে পড়েন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, দ্বিতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে ৩৫ বছরের কম বয়সীদের আবেদনের সুযোগ দেওয়া হলেও বেশি বয়সী প্রার্থীরা নিয়োগপ্রক্রিয়ার বাইরে থেকে যান। পরে ৩৯০০/২০১৯ নম্বর মামলার রায়ে ২০১৮ সালের ১২ জুনের আগে নিবন্ধন সনদ পাওয়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স শিথিলযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়। এরপরও নিয়োগে বৈষম্য রয়ে গেছে বলে দাবি করেন সংগঠনের নেতারা।
মো. মনিরুল হক বলেন, ১৩তম নিবন্ধনের ২ হাজার ২০৭ জন প্রার্থী আদালতের মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছেন। একইভাবে প্রথম থেকে দ্বাদশ নিবন্ধনধারীরাও তাঁদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে চান।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব জাকির হোসেন। তিনি প্রথম থেকে দ্বাদশ নিবন্ধনধারীদের নিয়োগে বৈষম্য দূর করা, চাকরির সুযোগ সৃষ্টি, চলমান মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি এবং পূর্বের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।