ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়ার শেষ মুহূর্তে মহাখালী বাস টার্মিনালজুড়ে বেড়েছে ঘরমুখো মানুষের চাপ। বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ ও বাসে ওঠার অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে যাত্রীদের।
বিশেষ করে ময়মনসিংহমুখী পরিবহনগুলোতে ছিল সবচেয়ে বেশি ভিড়। ইউনাইটেড ট্রান্সপোর্টের কাউন্টারের সামনে সকাল থেকেই যাত্রীদের দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে। এছাড়া সিলেট, শেরপুর, টাঙ্গাইল, মধুপুর ও হালুয়াঘাট রুটেও যাত্রীচাপ ছিল উল্লেখযোগ্য।
অনেক যাত্রী পরিবার-পরিজন নিয়ে কাউন্টারে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন। কেউ কেউ বাস মিসের শঙ্কায় নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই টার্মিনালে উপস্থিত হন।
ময়মনসিংহগামী যাত্রী আব্দুর রহমান বলেন, ভিড় বেশি হলেও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি ফিরতে পারছেন—এটাই এখন সবচেয়ে বড় স্বস্তি।
শেরপুরগামী নাসরীন জাহান জানান, শেষ সময়ে যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। তারপরও ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফেরা ছাড়া উপায় নেই।
টাঙ্গাইলগামী এক নারী যাত্রী বলেন, শিশুদের নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা কষ্টকর হলেও ঈদের আগের দিনের বাস্তবতা মেনেই যাত্রা করতে হচ্ছে।
এদিকে কয়েকটি পরিবহনের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তাদের দাবি, স্বাভাবিক সময়ে ৩০০ টাকার ভাড়া ঈদ উপলক্ষে ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহগামী যাত্রী সাব্বির শেখ অভিযোগ করে বলেন, ঈদের সময় মানুষের বাড়ি ফেরার বাধ্যবাধকতাকে কাজে লাগিয়ে কিছু পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেন টাঙ্গাইলগামী মাহমুদুল নামের আরেক যাত্রীও। তিনি বলেন, কয়েকটি বাসে বাড়তি ভাড়া চাওয়া হলেও তিনি শুরুতে রাজি হননি। পরে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে যাত্রা করার সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাউন্টার থেকে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে টাকা নেওয়া হচ্ছে না। তাদের ভাষ্য, কিছু বাসে কাউন্টারের বাইরে যোগাযোগের মাধ্যমে টিকিটবিহীন যাত্রী তোলার কারণেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা ঘটছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাখালী এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। টার্মিনালজুড়ে পুলিশ, বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ টিম, সাদা পোশাকের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা গেছে।
ঈদকে ঘিরে রাজধানী ছাড়ার এই চাপ আগামী কয়েক ঘণ্টা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।