আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন ধর্মীয় নেতার সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা বাড়ানোর মাধ্যমে তাকে নিয়ে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি ও ভুল বোঝাবুঝি দূর করার আশ্বাস দিয়েছেন নবনিযুক্ত ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
তিনি বলেছেন, সরাসরি যোগাযোগ ও কথাবার্তা বাড়লে কোনো খণ্ডিত তথ্য বা ভুল ব্যাখ্যা থেকে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করা সম্ভব হবে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর রোববার (২৩ আগস্ট) প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন বলেন, অনেক সময় একই কথা সরাসরি ও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব না হলে, কিংবা কোনো বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ মানুষের কাছে পৌঁছালে সেটি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা হতে পারে। তবে পারস্পরিক যোগাযোগ ও আলোচনা যত বাড়বে, কোথাও কোনো ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তা দূর হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।’
হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন মহলের সমালোচনা ও আপত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথিতযশা বিভিন্ন মতের ওলামায়ে কেরাম যারা আছেন, তাদের সকলের সহাবস্থান এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করে। শুধু ইসলাম না, অন্যান্য ধর্মের নেতৃবৃন্দ বা ধর্মীয় গুরু আছেন, তাদের সকলের কাছে আমি যাব। টুকটাক যে বিভ্রান্তি আছে সেগুলো দূর হয়ে যাবে।’
গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে ২১ অগাস্ট বিবৃতি দেয় হেফাজতে ইসলাম। সরকারকে এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
হেফাজতের দাবি, শামীম কায়সার লিংকন দেশের প্রচলিত পীর-মাশায়েখ, তাবলিগ জামাত এবং ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত চার মাযহাবের চেতনার বিরোধী মতাদর্শে বিশ্বাসী। যেহেতু ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিশেষায়িত একটি ক্ষেত্র। এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ইসলামী মূল্যবোধে শ্রদ্ধাশীল এবং উলামায়ে কেরামের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির হাতে দেওয়া উচিত।