পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের পথে যাত্রা করেছিলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মাদরাসাশিক্ষক মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বদর (৩৫)। কিন্তু মক্কায় পৌঁছানোর আগেই রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান তিনি। তাঁর মৃত্যুতে স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ স্বজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে।
নাসরুল্লাহ বদর কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে এবং রাজধানীর জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদরাসার সহকারী অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে তাঁর ভগ্নিপতি মাওলানা মো. নাসিরুদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ৪৫ সদস্যের একটি ওমরাহ কাফেলার সঙ্গে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন নাসরুল্লাহ। রিয়াদে দুই ঘণ্টার ট্রানজিট শেষে মক্কার উদ্দেশে যাত্রা শুরুর প্রস্তুতির সময় বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নাসরুল্লাহসহ ১২ জন নিহত হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নাসিরুদ্দিন জানান, ওই কাফেলার ৪৫ জনের মধ্যে ৩২ জন সুস্থ রয়েছেন। বাকি ১৩ জন গুরুতর আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নাসরুল্লাহ বদর স্ত্রী ও দুই ছেলে—মো. জামিল (৭) ও জাওয়াদ (২)—এবং পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে নাবিলাকে নিয়ে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনিই ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
স্বজনেরা জানান, নাসরুল্লাহর মৃত্যুর পর থেকে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। দ্রুত মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁর ভগ্নিপতি।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।