1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ময়মনসিংহ মেডিকেলে ডেঙ্গুতে আরও এক মৃত্যু, এ বছর প্রাণহানি ৩০ বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের হার ৫১ শতাংশ, সভ্য সমাজে এমন চিত্র অকল্পনীয়: সমাজকল্যাণমন্ত্রী দিল্লিতে বিক্ষোভের ঘটনায় মুক্তি পেলেন সিজেপির তিন নেতা নিরাপত্তার কারণে জেদ্দা বিমানবন্দরে ফ্লাইট বন্ধ, আটকা পড়েছেন ঢাকাগামী যাত্রীরা ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালে সৌরবিদ্যুৎচালিত পানি শোধন মেশিন, বিশুদ্ধ পানি পাবেন রোগীরা আইপিইউ সম্মেলন শেষে দেশে ফিরলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রিয়াদে হামলার জেরে বাংলাদেশ থেকে ৫ ফ্লাইট বাতিল, মাঝপথ থেকে ফিরল ইউএস-বাংলা আজ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস, বাগেরহাটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ঘুমিয়ে পড়লেন সিভিল সার্জন, সমালোচনা রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার, বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের হার ৫১ শতাংশ, সভ্য সমাজে এমন চিত্র অকল্পনীয়: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের হার ৫১ শতাংশ উল্লেখ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, কোনো সভ্য সমাজে বাল্যবিয়ের এমন চিত্র অকল্পনীয়। এ সমস্যা মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের অ্যালামনাই ফ্লোরে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মী সমিতি (সিএসডব্লিউএবি) এ সেমিনারের আয়োজন করে।

বাল্যবিয়ের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও কারও অবস্থানের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, অল্প বয়সে বিয়ের কারণে মা ও অনাগত সন্তানের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। বিয়ে নিরুৎসাহিত করা নয়, বরং উপযুক্ত বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করার মাধ্যমে ছেলে, মেয়ে ও ভবিষ্যৎ সন্তানের কল্যাণ নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে পুষ্টির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, বাল্যবিয়ের মতো সামাজিক সমস্যার পেছনে এক ধরনের জেদ ও অপরিণত মানসিকতা কাজ করে। এ অবস্থা থেকে সমাজকে বেরিয়ে আসতে হবে। শুধু আইন দিয়ে এ পরিবর্তন সম্ভব নয়; সমাজকর্মীদের পাশাপাশি মানুষের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনতে মনোসামাজিক উদ্যোগও প্রয়োজন।

সামাজিক সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

মানসিক ও স্নায়ুবিক বিকাশজনিত সমস্যার সঙ্গে সামাজিক পরিবেশের প্রভাবের পার্থক্য তুলে ধরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, কিছু শিশু জন্মগতভাবে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্মায়। স্নায়ুবিক বিকাশের সমস্যা কিংবা যোগাযোগজনিত ব্যাধির জন্য আলাদা চিকিৎসা ও সমাধান প্রয়োজন। তবে পরিবেশ কীভাবে মানুষের আচরণ ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে, সেটিও গভীরভাবে বুঝতে হবে।

শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু মিছিল, স্লোগান কিংবা নির্যাতনকে অপরাধ ঘোষণা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এসব উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা পর্যালোচনা করা জরুরি।

সম্প্রতি কুমিল্লায় শিশুদের ঘিরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, এসব ঘটনার পেছনের কারণ খুঁজে বের করতে হবে। শিশুটির পারিবারিক পরিস্থিতি, চলাফেরা এবং ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছে, তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। একই সময়ে একটি ছেলে ও একটি মেয়েকে ঘিরে দুটি পৃথক ঘটনা ঘটার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি সমাজের মানুষের মনমানসিকতা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, কোনো ঘটনা ঘটার পর শিশুকে উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয় ও চিকিৎসা দেওয়া জরুরি। কিন্তু একই সঙ্গে ঘটনার পেছনের কারণ, সংশ্লিষ্ট পরিবারের অবস্থা এবং পরবর্তী পরিস্থিতিও বিশ্লেষণ করতে হবে। তা না হলে একই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটার আশঙ্কা থেকে যায়।

সামাজিক সমস্যার সমাধানে শুধু কারাগার, হাসপাতাল, পুলিশ কিংবা চিকিৎসক বাড়ানো যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করা না গেলে এসব অবকাঠামো ও জনবল দিয়ে কতটা সমাধান সম্ভব?

প্রায় ১৮ কোটি মানুষের বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, একটি বা দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাময়িক ব্যবস্থা নিলে স্থায়ী সমাধান পাওয়া যাবে না। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর অবস্থা এবং তাদের কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

কমিউনিটির অংশগ্রহণ জরুরি

নিজের ২০ থেকে ২৫ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, চিকিৎসা ও রাজনীতি—দুই ক্ষেত্রেই কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁর উপলব্ধি, সমাজের সব খাতের অংশগ্রহণ ছাড়া এসব সমস্যার সমাধানে বেশি দূর এগোনো সম্ভব নয়। তবে নিজের উপলব্ধি ভুলও হতে পারে বলে তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

সমাজকর্মীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। উদ্যোগগুলো দীর্ঘস্থায়ী করতে স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের বার্তা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকে সম্পৃক্ত করা জরুরি।

সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রশাসনিক কাঠামোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা, জেলা পর্যায়ে উপপরিচালক এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও মহাপরিচালকের পদ রয়েছে। তবে সামাজিক সমস্যার ব্যাপ্তি বিবেচনায় সমাজকর্ম ও সমাজকল্যাণ খাতকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

মন্ত্রী আরও বলেন, একসময় সমাজকল্যাণ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একীভূত ছিল, পরে তা পরিদপ্তরে রূপ নেয়। বর্তমান সামাজিক সমস্যাগুলোর ধরন ও ব্যাপ্তি বিবেচনায় এ খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।

বাল্যবিয়ে, শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় আইন প্রয়োগ, চিকিৎসা, সামাজিক সচেতনতা, দক্ষ সমাজকর্মী এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি