কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়েক শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা-মা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী লালমাই সানন্দা পাহাড়ের জঙ্গল এলাকা থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে সন্দেহের ভিত্তিতে তুহিন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তার বাড়ি সানন্দা এলাকায়। তার বাবার নাম নুরুল আলম। কোটবাড়ি থানার পরিদর্শক মহিবুল আলম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর তার বাসায় যান কুমিল্লা সদর আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তিনি পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এ সময় অপ্রতীমের মা ড. নাহিদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি—এটা কী আমার অপরাধ। আমার ছেলেকে কেন হত্যা করা হলো। আমি এর জবাব চাই। আমি এখন কেমনে বাঁচব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার একটি মাত্র ছেলে। তাকে কেন এভাবে হত্যা করা হলো।’
এদিকে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এ এলাকার এমপি হিসেবে লজ্জিত ও দুঃখিত। একজন মাসুম বাচ্চাকে রক্ষা করতে পারলাম না। আমি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। ৯০ দিনের মধ্যে এ ঘটনার বিচার শেষ করতে হবে।’
অপ্রতীমের নিখোঁজের পর থেকেই তার সন্ধানে তৎপর ছিল পুলিশ ও স্বজনরা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হয় সে। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, পুলিশের একাধিক দল ঘটনাটি তদন্তে কাজ করছে এবং কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃত হত্যাকারী শনাক্ত ও গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অপ্রতীমের মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যেও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ছেলে হারানোর ঘটনায় দ্রুত বিচার দাবি করেছেন তার মা।