ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আপিলের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নুসরাতের বাড়িতে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) পরিবারের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসিমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ নুসরাতের বাড়িতে যায়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এদিকে সোমবার (২৪ আগস্ট) হাইকোর্টে মামলাটির ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হলেন- সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার তৎকালীন কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলা, শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহিউদ্দিন শাকিল।
পুলিশের পক্ষ থেকে রায় ঘোষণার দিন ও পরবর্তী সময়ে বাড়ির আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে নুসরাতের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
নুসরাত জাহান রাফির বড় ভাই মো. নোমান বলেন, ‘বাড়িতে আমার মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা আছেন। বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করায় পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা ন্যায় বিচার কামনা করছি।’
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. আবুল হাসিম বলেন, ‘২০১৯ সালে নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের পর থেকেই তাদের বাড়িতে পরিবারের নিরাপত্তায় প্রতিদিন পুলিশের একটি টিম নিয়োজিত ছিল। হাইকোর্টের রায়কে ঘিরে আরও বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’
এদিকে ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ভবনের ছাদে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ এপ্রিল মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। তদন্ত শেষে ২৮ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণা করেন আদালত।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলার রায় দেন। রায়ে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। পরে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল ও জেল আপিল করেন। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ জুলাই হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সোমবার (২৪ আগস্ট) রায়ের দিন ধার্য করেন।