দেশের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঈদুল আজহার ছুটির পর অফিস খোলার দিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবহৃত বিশেষ টেলিফোনে সংযোগ না পাওয়ায় বিষয়টি সামনে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, টেলিফোন লাইনের প্রয়োজনীয় সংযোগ না থাকায় ফোনটি অচল হয়ে পড়ে। পরে রাষ্ট্রীয় টেলিযোগাযোগ সংস্থার কর্মকর্তারা প্রায় সাত ঘণ্টার চেষ্টায় সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন। ঘটনাটি নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক সরকারি সংস্থা তদন্ত ও অনুসন্ধান শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ টেলিফোন অত্যন্ত স্পর্শকাতর যোগাযোগব্যবস্থার অংশ। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের কাজে এটি ব্যবহার করা হয়। তাই এ ধরনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক নয় বলেও মনে করছেন তারা।
সচিবালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনা হওয়া সত্ত্বেও সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত এবং নিরাপত্তা বলয় ভেঙে প্রবেশের ঘটনাও ঘটছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদের ছুটি শেষে অফিস খোলার দিন সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিশেষ টেলিফোনটি অচল অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
রাষ্ট্রীয় টেলিযোগাযোগ সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তারা কাজ শুরু করেন এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বিকেলে সংযোগ সচল করতে সক্ষম হন। তবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, সচিবালয়ের পুরোনো ও নতুন ভবনের মধ্যে স্থাপিত মূল্যবান তামার তারের বিভিন্ন অংশ কাটা ও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও তার সম্পূর্ণ উধাও ছিল। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নজরদারি চিত্র পর্যালোচনা এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
এদিকে সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, বর্তমানে সচিবালয়ের নিরাপত্তা আগের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হলেও কার্যকর পরিবর্তন দেখা যায়নি।
গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। বিষয়টির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিভিন্ন গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সূত্র: আমার দেশ