ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে এক কলেজশিক্ষার্থীসহ দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৮ মে) রাত আনুমানিক সোয়া ১১টার দিকে ধজনগর সীমান্তসংলগ্ন ভারতের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতদের একজন মো. মোরছালিন (২২)। তিনি কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর বাতানবাড়ি এলাকার হেবজু মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় শাহআলম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বিজিবি জানিয়েছে, নিহতরা চোরাচালান কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শরিফুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাতে প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় সহযোগীদের সহায়তায় ধজনগর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে মালামাল নিয়ে ফেরার সময় বিএসএফের ৪৯ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের বাধা দেয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে চোরাকারবারিদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর বিএসএফ গুলি চালালে মো. মোরছালিন ঘটনাস্থলে নিহত হন। আরেকজন আহত অবস্থায় ভারতের হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
এদিকে মোরছালিনের পরিবারের দাবি, রাতে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে সীমান্ত এলাকায় গুলির খবর জানতে পারেন তারা। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বিএসএফ সদস্যরা তার মরদেহ ভারতের ভেতরে নিয়ে যায়।
বিজিবি জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ ফেরত আনতে বিএসএফ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে প্রটেস্ট নোট পাঠানো এবং পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।