1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ইমরান-নাকানো দম্পতির ছোট মেয়ে বাবা-মায়ের কাছে ১ দিন করে থাকবে পাতালরেল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে আরেক ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২ বকশীগঞ্জে ডিসিসিআই প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার ছামির সাত্তারকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান ময়মনসিংহে জমি নিয়ে বিরোধে বাবা-ছেলে খুন সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা হজ প্যাকেজ ঘোষণা দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের এক ধাপ অবনমন জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করা সেই ভূমি কর্মকর্তা বদলি বকশীগঞ্জের আজমীরগঞ্জ দরবার শরীফে দুই দিনব্যাপী ওরশ শুরু

করোনা চিকিৎসায় নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের বেহাল দশা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২১

দেশে ফের ভয়াবহ আকার ধারণ করছে করোনার সংক্রমণ। এ পরিস্থিতিতেও নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল যেন করোনা রোগীদের চিকিৎসায় সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত! ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদরের এ হাসপাতালটিতে এখনো চালু করা হয়নি সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থার। নেই কোনো ভেন্টিলেটরও। একটি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) বেডও নেই।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটও রয়েছে। জরুরি চিকিৎসার জন্য অপরিহার্য এসব ব্যবস্থা না থাকায় চলমান পরিস্থিতিতে জেলাবাসীর মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। সংকটময় মুহূর্তে হাসপাতালটি নিজেই যেন ভুগছে নানা সমস্যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালটি জেলা সদরের একমাত্র সরকারি হাসপাতাল। জেলা সদর ছাড়াও ৯ উপজেলার রোগীরা জরুরি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য এ হাসপাতালটির ওপর নির্ভর করেন। ইতোমধ্যে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনও এর কার্যক্রম চলছে ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে।

গতবছর করোনা পরিস্থিতির শুরুতে হাসপাতালটিতে ৩৬টি শয্যা নিয়ে চালু করা হয় করোনা ওয়ার্ড। কিন্তু কেবল ৩৬টি শয্যা, তিনটি পালস অক্সিমিটার আর ১১টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ছাড়া আর কিছুই যেন নেই করোনা ইউনিটে। শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য অক্সিজেন-সহায়তা অপরিহার্য হলেও পুরো হাসপাতালে আজও সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা চালু করা হয়নি। গণপূর্ত বিভাগ সেন্ট্রাল অক্সিজেন চালুর জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন করলেও এর কার্যক্রম শুরু হয়নি এখনও।

সম্প্রতি হাসপাতালটির জন্য দুটি ভেন্টিলেটর মেশিন সরবরাহ করা হলেও এনেসথেটিস্ট ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং সেন্ট্রাল অক্সিজেনের অভাবে সেগুলোও চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। পুরো হাসপাতালে একটিও নেই আইসিইউ বেড। হাই-ফ্লো ন্যাজাল কেনোলারও অভাব রয়েছে।

এদিকে পুরো হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা চলছে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে। রোগীর চাপ বেশি থাকায় বেশিরভাগ সময় প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স ডেকে আনতে হয়। হাসপাতালটিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরও সঙ্কট রয়েছে। উপজেলা হাসপাতালগুলো থেকে কর্মচারীদের এনে চাপ সামলানো হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারাদেশের মতো নেত্রকোনায়ও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করায় দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে পরিস্থিতি। কিন্তু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলা সদরের হাসপাতালটির নানা অব্যবস্থা জেলাবাসীর আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাসপাতালটি ঘুরে দেখা গেছে, তৃতীয় তলায় ওঠার সিঁড়ির পাশে অস্থায়ী রোগীর বেড রাখা রয়েছে। এটি সরিয়ে তৃতীয় তলায় উঠে দেখা যায়, করোনা ইউনিটের নাজুক পরিস্থিতি। এলোমেলো অবস্থায় ছড়িয়ে রয়েছে বেড। নেই কোনো বিছানাপত্রও। ৩৬টি বেডের একটিও প্রস্তুত নেই। যে কোনো গুরুতর রোগী হাসপাতালে গেলেই সমস্যায় পড়তে হবে কর্তৃপক্ষের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নেত্রকোনা সদরের পৌরসভায় মোট আক্রান্ত ২১১ জন করোনা শনাক্ত রোগীর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৮৯ জন। মারা গেছেন দুজন। সদর উপজেলায় মোট ২৫১ জনের করোনা শনাক্ত হলেও সুস্থ হয়েছেন ২২৬ জন। এখনো করোনা পজিটিভ রয়েছে ২৫ জন। অন্যদিকে সারা জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৯৫৬ জন। সুস্থ হয়েছেন ৮৭৬ জন। মারা গেছেন ১৭ জন। বুধবার পর্যন্ত একজন করোনা পজিটিভ রোগীও জেলা সদরের এই হাসপাতালে ভর্তি হননি।

রয়েছে করোনার নমুনা সংগ্রহের বিষয়ে নানান অভিযোগ। র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করতে গেলে অতিরিক্ত টাকা না দিলে নমুনা না নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে সদর হাসপাতালের ল্যাবে কর্মরতদের বিরুদ্ধে। তাছাড়া নমুনা দেয়ার পর রিপোর্ট প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও পোহাতে হয় বিড়ম্বনা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা সিভিল সার্জন মো. সেলিম মিয়া বলেন, ‘এখন ভিডিও কনফারেন্সে আছি। পরে এসে যোগাযোগ করবেন।’

তবে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এএসএম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু করতে আরও সময় লাগবে। ভেন্টিলেটর দুটো চালু করতেও কমপক্ষে তিনজন এনেসথেটিস্ট এবং অন্তত একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেন, ‘আপাতত কয়েকটি হাইফ্লো অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করা হলে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।’

স্থানীয় সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিয়া বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার জন্য সব প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। তবে জটিল রোগী হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোভিড রোগীদের পরিবহনের জন্য আমরা আরেকটি বিকল্প অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করছি। এছাড়া সব ধরনের সরঞ্জাম চেয়ে বিভাগীয় পরিচালকের কাছে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি।’

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সভা করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২২ আঙ্গর টিভি