1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০১:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
রামিসা হত্যার রায়ে আমরা সন্তুষ্ট, যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি : আইনমন্ত্রী হাইকোর্টে নথি পৌছালে দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেয়া হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল রায়ের পর কাঁদছেন স্বপ্না, নির্বাক সোহেল চট্টগ্রামে ট্রাকের সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কা, বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল-স্বপ্নার ফাঁসির রায় দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনায় যোগ দিলেন ব্রাজিল সমর্থক পদ্মায় ডুবে যাওয়া সেই বাসের চালকসহ গ্রেপ্তার ৩ শিশু নির্যাতন রোধে জাতীয় শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে: ডেপুটি স্পিকার তিন দিনের সফরে কাল রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা
রায়ের পর কাঁদছেন স্বপ্না, নির্বাক সোহেল

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর আদালতকক্ষে আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি হয়। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখা যায় স্বপ্নাকে, আর নির্বাক অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকেন সোহেল রানা।

রোববার (৭ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রায়ের পর আদালতের দৃশ্যে দেখা যায়, কাঠগড়ায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল মুখে মাস্ক পরে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। অপরদিকে আরেক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে তার পাশে বসেই অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে।

তবে রায় ঘোষণার পর বিপরীত দৃশ্যও দেখা গেছে আদালত কক্ষ ও চত্বরে। উপস্থিত দর্শনার্থী, জনতা ও নিহতের স্বজনেরা রায় ঘোষণার পরপরই উচ্ছাস প্রকাশ করে হাত তালি দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশুর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। একই দিন ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করে পুলিশ।

পরবর্তীতে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ছিলেন প্রধান আসামি এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

তদন্তে ডিএনএ, ফরেনসিক আলামত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করে পুলিশ। তদন্ত শেষে ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, যেখানে সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।

মামলার বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু আদালতে বলেন, পুরো মামলায় একটি সুস্পষ্ট ‘চেইন অব ফ্যাক্ট’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা অপরাধে আসামিদের সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহ দাবি করেন, মামলায় ডিএনএ রিপোর্ট ও সিসিটিভি ফুটেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ অনুপস্থিত ছিল। তার মতে, এসব ঘাটতির কারণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি আসামিদের খালাসের আবেদন জানান। বিকল্প হিসেবে সোহেল রানার জন্য যাবজ্জীবন এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজা প্রার্থনা করেন তিনি।

মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে তদন্ত, অভিযোগপত্র, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কসহ পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত একটি মামলার ক্ষেত্রে দ্রুততম বিচারিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি