নামাজকে নিয়মিত জীবনের অংশ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সংসদ সদস্য এবং দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, সংসদ অধিবেশন চলাকালে নামাজ আদায়ের জন্য ৩০ মিনিট সময় রাখা হয়। অধিকাংশ সংসদ সদস্য শারীরিকভাবে সুস্থ থাকায় তাঁদের জামাতে নামাজ আদায়ের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীও জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করতে আগ্রহী। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করা সম্ভব হবে না।
জামায়াতের এই নেতা সংসদে মৃত্যুর পর মানুষের জবাবদিহির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবন সীমিত এবং একদিন সবাইকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। মৃত্যুর পর প্রথম যে বিষয়গুলোর হিসাব দিতে হবে, তার মধ্যে নামাজ রয়েছে।
এ কারণে সবাইকে নিজেরা নামাজ আদায়ের পাশাপাশি সমাজে নামাজ প্রতিষ্ঠার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সন্তানদের পাঁচ বছর বয়স থেকেই নামাজের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান আরও বলেন, সন্তান ১০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর তাকে নামাজ আদায়ের জন্য প্রশাসনিকভাবে তাগিদ দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। রাষ্ট্রীয়ভাবে নামাজ ও জাকাতের বিধান কার্যকর করার কথাও বলেন তিনি।
নামাজের বিধান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের নাগরিকদের চরিত্র উন্নয়নের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান রাজশাহী-১ আসনের এই সংসদ সদস্য।
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ধর্ম পালন প্রত্যেক ব্যক্তির স্বাধীনতার বিষয়। প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে।
তিনি ইসলামকে মানবতার ধর্ম হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ধর্মীয় বিধান যথাযথভাবে পালন করলে বেহেশত এবং অবহেলা করলে জাহান্নামের বিষয়টি ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যরা অবগত আছেন বলেও মন্তব্য করেন স্পিকার।
ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ ধর্মের বিধান মেনে চলবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংসদে নামাজ আদায় নিয়ে এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অধিবেশনে ধর্মীয় অনুশাসন ও ব্যক্তিগত ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা হয়।