1. najmush71@gmail.com : admin : Najmush Shakeer
  2. munir2002lubnan@gmail.com : Munirul Huq Khan : Munirul Huq Khan
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৭:২০ অপরাহ্ন

জামালপুর সীমান্তে পুশইন করা সেই বৃদ্ধকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

জামালপুরের বকশীগঞ্জে ধানুয়া কামালপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন করা ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে (৬০) পরিবাবের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় বকশীগঞ্জ থানা থেকে বকশীগঞ্জ থানার পুলিশ ও জামালপুর-৩৫ বিজিবি সদস্যরা ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে তার ভাই ভবানী বর্মনের কাছে হস্তান্তর করে। ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন রাজশাহীর জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চান্দলাই এলাকার বাবু চন্দ্র বর্মনের ছেলে।

জানা গেছে, ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন গত দুই মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন। বুধবার সকালে বকশীগঞ্জের রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ পিলারের কাছে তাকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। এ সময় বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে ব্যর্থ হয়ে তাকে শুন্য রেখায় ফেলে রেখে যায় বিএসএফ। সেখান থেকে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেন। পরে আবার শুন্য রেখায় চলে যান তিনি।

এ নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও কোনো পক্ষই ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে নিতে রাজী হয়নি। এক পর্যায়ে দুই দেশের জনগণের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিকেল ৫টার দিকে কাঁটাতারের বেড়া ভেদ করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় দুই দেশের জনগণের মধ্যে। এ সময় বাংলাদেশি নাগরিকদের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যান ভারতীয়রা। আর ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন কোনো দেশে ঠায় না পেয়ে সারারাত শুন্য রেখায় অবস্থান করেন। পরে মিডিয়ার মাধ্যমে ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে পুশইনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিও তার পরিবারের লোকজন দেখে জানতে পারেন ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে রয়েছেন।

এরপর পরিবারের সদস্যরা বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারপর পরিচয় যাচাই-বাছাই করে তাকে সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় এবং বকশীগঞ্জ থানায় এনে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী থেকে ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে নিতে তার বড় ভাই ভবানী বর্মন ও মেয়ে জামাই রোদ চন্দ্র বর্মন বকশীগঞ্জ থানায় যান। এ সময় ভাইকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন। পরে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিবাবের কাছে হস্তান্তর করে। বিকেল ৫টার দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাস ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে নিয়ে জামালপুর থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

বড় ভাই ভবানী বর্মন বলেন, আমার ভাই দুই মাস আগে হঠাৎ নিখোঁজ হয়। আমরা গরিব মানুষ, টাকা-পয়সা নেই, তাই পুলিশের কাছে যাইনি। কাল আমার ছেলে একটা ভিডিও দেখে বলে, কাকাকে জামালপুর সীমান্তে পাওয়া গেছে। পরে আমরা বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করি। এখন এখানে এসে আমার ভাইকে ফিরে পেলাম।

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন বলেন, সীমান্ত থেকে উদ্ধার হওয়া ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনের পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিচয় নিশ্চিত করে। পরে আজ বিকেলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২৩ আঙ্গর টিভি