বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আবাসিক হলসংলগ্ন সড়কে বিকট শব্দে ও বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর অভিযোগে দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুক্রবার রাতে বহিরাগত কয়েকজন আরোহীর গতিরোধ করে পুলিশকে বিষয়টি জানান শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেল দুটি জব্দ করে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম। তিনি জানান, অঙ্গীকারসংবলিত মুচলেকা নিয়ে সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল দুটি ছেড়ে দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে উচ্চ শব্দের মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করার শর্তে আরোহীরা সেগুলো ফেরত নিতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে জব্বার মোড় থেকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলসংলগ্ন সড়কে কয়েকজন বহিরাগত আরোহী উচ্চ শব্দে ও বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল নিয়ে বারবার চলাচল করছিলেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
একপর্যায়ে বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের উদ্যোগে মাওলানা ভাসানী হল, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও ফজলুল হক হলের ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল দুটির গতিরোধ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলে প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেগুলো জব্দ করে।
ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা জানান, মোটরসাইকেল আরোহীদের সঙ্গে কোনো ধরনের মারধর বা দুর্ব্যবহার করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই তাঁরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানান।
শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের বেপরোয়া গতিতে ও উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেল চালানো শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাঁরা সচেষ্ট রয়েছেন। ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্রদলের এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, মোটরসাইকেলগুলো আটক করা হয়েছিল। আরোহীরা বারবার এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে আসছিলেন। মুচলেকা দিয়ে তাঁরা মোটরসাইকেলগুলো নিয়ে যাবেন। ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতিতে তাঁদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
প্রক্টর আরও বলেন, ক্যাম্পাসে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কাউকে হয়রানি করা নয়, বরং সবাই যেন আইন মেনে চলেন, সেটিই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লক্ষ্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা জানান, উচ্চ শব্দের মোটরসাইকেল ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সরাসরি জরিমানা করার ক্ষমতা না থাকায় এ ক্ষেত্রে পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হবে।