একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদের আপিল গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সে বিষয়ে শুনানি অবকাশকালীন ছুটির পর অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন। এ সময় বিচারাধীন বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করতে চিফ প্রসিকিউটরকে সতর্ক করেন আদালত।
পরে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল বিভাগে অবকাশকালীন ছুটি থাকবে। ছুটি শেষে আদালত খোলার চার সপ্তাহ পর আবুল কালাম আযাদের আপিলের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আপিলে আবুল কালাম আযাদ বিলম্ব মার্জনা এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের রায় স্থগিতের আবেদন করেছেন।
২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি পলাতক অবস্থায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ওই রায় দেওয়া হয়। স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি ছিল প্রথম রায়।
বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলামবিষয়ক অনুষ্ঠান করে পরিচিতি পাওয়া আবুল কালাম আযাদ রায়ের পর দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল করার শর্তে আবুল কালাম আযাদের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। পরে তিনি আত্মসমর্পণ করে আপিলের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের আবেদন করেন।
এর ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আপিলের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন। পরে আবুল কালাম আযাদ আপিল করেন।