সরকার বিমানবাহিনীর জন্য চীনের তৈরি জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান কেনার পথে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মডেলের চতুর্থ প্রজন্মের এমআরসিএ ফাইটার এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার ও ইউএভি সিস্টেম—এগুলো কেনার প্রক্রিয়া চলমান। এই অর্থবছরে বাজেট পাওয়া গেলে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। তা সম্ভব না হলে পরবর্তী বাজেটে চলে যাবে। এমআরসিএ (জে-১০ সিই) এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংগ্রহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে নেগোসিয়েশন মিটিংয়ের খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে এই সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। শুরুতে তথ্যমন্ত্রী সরকারের ৬ মাসের বিশেষ অর্জন বিষয়ে তথ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান: গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ৬ মাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।
চীনের তৈরি জে-১০ সিই ফাইটারের সক্ষমতার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে ভারতের রাফাল ডাউন হয়েছিল, সেটা করেছিল চায়নিজ জে-১০। এই তথ্য এখন প্রতিষ্ঠিত। রাফালকে বলা হয় ৪ দশমিক ৫ জেনারেশনের সবচেয়ে আধুনিক ফাইটারগুলোর একটা। তার সঙ্গে কমব্যাট সিচুয়েশনে খুবই ভালো করেছে (জে-১০)। তাই বাংলাদেশ সেদিকে মনোযোগ দিয়েছে এবং আমরা এই পথে খুব ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।
ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে নীতিমালা শিগগিরই: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, রাজধানীর প্রধান সড়ক ও মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। এ নীতিমালায় কোন এলাকায় এবং কতটুকু এসব রিকশা চলাচল করতে পারবে, যানবাহনের মান ও কারিগরি সক্ষমতা এবং চালকদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকার বড় ও প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল বেড়েছে। এতে মানুষের চলাচলে কিছু সুবিধা তৈরি হলেও যানজটসহ নানা ধরনের অসুবিধাও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এসব রিকশার চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি যানবাহনগুলো কারিগরি দিক থেকে কতটা নিরাপদ ও মানসম্মত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এ ছাড়া প্রচুর সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ঘাটতি না হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে মোট ১৩ লাখের বেশি (১৩.৬৫৬) টন সার গুদামে মজুত আছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এ সময় সারের মজুত ছিল ১৩ লাখ টন। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কোনো কোনো জায়গায় সার বিতরণে অনিয়মের খবর পত্রিকায় এসেছে, এটি তারা খেয়াল করেছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
কিছুটা বিতরণের অনিয়ম আছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সরকার কৃষক ও জনগণের স্বার্থে বিতরণ ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। সেটা নিয়ে কিছুটা অস্থিরতা, নতুন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয়ের সমস্যা—এগুলো হচ্ছে। কোনো কোনো ডিলার তার বরাদ্দের সার উত্তোলন করছেন না। এ ধরনের ঘটনার কারণে কোনো জায়গায় কিছুটা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তবে তারা আশা করছেন এটা বেশিদূর এগোবে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।