জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার এক উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১ শিক্ষক থাকার পরও পাস করাতে পারেননি তিন শিক্ষার্থীকে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা যায়।
জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার কদমতলী ক্বারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অংশ নিয়েছিল মাত্র তিন শিক্ষার্থী। তবে ওই তিন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেননি। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১১ শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। চলতি বছরই প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ওই তিন শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হওয়ায় হতাশা দেখা দিয়েছে।
ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ মামুন অর রশীদ বলেন, ‘বিদ্যালয়টিতে ১১ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও কেন এমন ফলাফল হলো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ, নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান কার্যক্রমসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুর আলম বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত তিনটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পেয়েছি যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই এসএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। আমরা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলসহ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনা করে মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।’
জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, একটি প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকার পরও শিক্ষার্থীদের ফলাফল আশানুরূপ না হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার পরিবেশ ও অ্যাকাডেমিক তদারকির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা জরুরি।
এদিকে জামালপুরের আরও দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। ফলে জেলার তিনটি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।