মায়ের নামের বানান নিয়ে আবেদনকারী ব্যক্তির হয়রানির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আবজাউল আলমকে বদলি করা হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ টি এম আবু আসাদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়।
আদেশে আবজাউল আলমকে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিসা সেলে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ঢাকার উত্তরার পার্সোনালাইজেশন কমপ্লেক্সের বেসিক ক্লিয়ারেন্স শাখায় সংযুক্ত করা হয়। ৫ জুলাইয়ের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ৩০ জুন ভুক্তভোগী জুনাইদ হাসানের মায়ের নামের বানান ‘ব্যাকরণসম্মত’ নয় দাবি করে পাসপোর্ট করা হবে না বলে জানান ওই কর্মকর্তা। হয়রানির সেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, জুনাইদ পাসপোর্টের ফাইল জমা দিতে গেলে আবজাউল আলম তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। তার দাবি, জুনাইদের মায়ের নাম বাংলায় ‘জহুরা’ হলেও ইংরেজিতে লেখা ‘Johora’। বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী হ্রস্ব-উকারের প্রতিবর্ণী হিসেবে ইংরেজিতে ‘U’ লিখতে হবে। বানান ঠিক না করলে তিনি ফাইল নেবেন না।
ভাইরালের পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ফেসবুকে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (৪ জুলাই) সখীপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগীর ভাই মাসুদ রানা।
তিনি অভিযোগ করেন, সব কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও জুনাইদের আবেদন অযৌক্তিক কারণে বাতিল করা হয়েছে। মাসুদ রানা পাসপোর্ট অধিদপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে ঘটনার তদন্ত চেয়ে দায়ী কর্মকর্তার শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি পাসপোর্ট অফিসকে দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত করার আহ্বান জানান।
এই ঘটনার পর অন্য ভুক্তভোগীরাও মুখ খুলছেন। তাদের অভিযোগ, দালাল ছাড়া সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে গেলে কর্মকর্তাদের হয়রানির শিকার হতে হয়।
তবে পাসপোর্ট অফিসের বিতর্কিত ওই সহকারী পরিচালক আবজাউল আলমের দাবি, সামাজিক মাধ্যমের ভিডিওটি খণ্ডিত। আবেদনকারীর সঙ্গে তার কথা হয়নি। ভাবমূর্তি নষ্ট করতে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি গোপনে এটি ভিডিও করেছেন। গ্রাহককে কাগজপত্র জমা দিতে বলা হলেও তিনি তা না করে থানায় অভিযোগ করেছেন।