কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ নামের এক হাতুড়ে চিকিৎসককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাঁর চেম্বারটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁর চেম্বারে অভিযান পরিচালনা করে এ দণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার।
ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ শিলাইদহ ইউনিয়নের দাঁড়িগ্রামের রশিদ শেখের ছেলে ও বেলগাছি মেডিকেল হলের মালিক।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিম মানবিক বিভাগ থেকে ২০১৪ সালে এসএসি পাস করেন। পরে একটি কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেন। পরে ২০২৩ সালে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মাত্র ২১ দিনের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ নেন। এরপর তিনি বেলগাছি গগন হরকরা মোড় এলাকায় বেলগাছি মেডিকেল হল নামে একটি চেম্বার খুলে মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন।
সম্প্রতি কয়েকজন শিশু চুলকানি রোগের জন্য তাঁর কাছে গেলে তিনি তাদের আলফাকোর্ট নামের এক ধরনের স্টেরোয়েড ইনজেকশন দেন। ইনজেকশনের পর থেকে শিশুদের কারও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে উঠছে, কারও মুখে গজাচ্ছে লোম। এতে অন্তত ১০ শিশুর জীবন বিপন্ন হতে বসলে ৮ মার্চ ইউএনও বারবর লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী সাত অভিভাবক।
এ বিষয়ে ৯ মার্চ দৈনিক সমকাল পত্রিকায় ‘হাতুড়ে চিকিৎসকের ভুলে বিপন্ন ১০ শিশুর জীবন’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। এ ছাড়াও ১৩ মার্চ দৈনিক সমকালের সম্পাদকীয় কলামে ‘হাতুড়ে চিকিৎসা, সংকটের উত্তর সেবা ও সচেতনতা’ শিরোনামে আরও নিবন্ধ প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
রোববার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী- আলাউদ্দিননগর সড়কে বেলগাছি গগন হরকরা মোড়ের পূর্বপাশে অবস্থিত বেলগাছি মেডিকেল হল নামক একটি ওষুধের দোকান। সেখানে অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। ভিড় করেছেন উৎসুক জনতা।
এ সময় শিলাইদহ ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ওয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘গ্রামের মানুষ বোকাসোকা। আর সেই সুযোগে বিশাল সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ভুলভাল চিকিৎসা দিচ্ছিলেন ইব্রাহিম। অথচ তিনি ডাক্তারই না। আসলে এসব প্রতারকদের শাস্তি হওয়া উচিত।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক মোছা. শামিমা আক্তার বলেন, ইব্রাহিম মাত্র ২১ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে ক্লিনিকের মতো চেম্বার খুলে মানুষকে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। এমনকি, শিশুদের স্টেরোয়েড জাতীয় চিকিৎসাও দিচ্ছিলেন। এতে অনেকের জীবন বিপন্ন হতে বসেছে। কয়েকজন শিশুর অভিভাবকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই হাতুড়ে চিকিৎসককে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়াও চেম্বারটি সিলগালা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।