ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মাদকের অর্থ সংগ্রহে মরিয়ম আক্তার(৪) নামে এক কন্যা শিশুর গলায় থাকা রূপার একটি চেইন ছিনতাই করে মাদকাসক্ত দুই বন্ধু ইয়াছিন মিয়া(১৬) ও আকাশ(১৫)। ছিনতাইকালে ইয়াছিন ও আকাশকে চিনে ফেলায় শ্বাসরোধে শিশু মরিয়মকে হত্যা করে বাড়ির পাশের একটি মাটির চুলার ভিতর লাশ ভরে রাখে বলে আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি ইয়াছিন মিয়া (১৬)।
আজ (২০ মার্চ) শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে শিশু মরিয়মের বাবা মিজানুর রহমান বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। রাতেই মামলা রেকর্ড করে থানা-পুলিশ। তারও আগে গতকাল সন্ধ্যা ৬ টার দিকে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মারুয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু মরিয়ম আক্তার একই গ্রামের মিজানুর রহমান ও রিমা আক্তার দম্পতির একমাত্র কন্যা। ঈদের আগে চাঞ্চল্যকর এমন ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পুলিশ জানায়,ছিনতাই করা রূপার চেইন আঠারবাড়ী রায়ের বাজারের একটি জুয়েলারি দোকানে মাত্র ১২’শ টাকায় বিক্রি করে ইয়াছিন ও আকাশ। হত্যা মামলায় উল্লিখিত আসামিরা হলো- মারুয়াখালী গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের ছেলে ইয়াছিন(১৬) ও একই গ্রামের ফরজুলের ছেলে আকাশ(১৫)।
গতকাল রাতেই অভিযান চালিয়ে দুই বন্ধু ইয়াছিন ও আকাশকে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার তাদের আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। নেশার টাকা সংগ্রহ করতে এবং তাদের চিনে ফেলার কারণে শিশু মরিয়মকে হত্যা করেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদান করে ইয়াছিন।
নিহত শিশুর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টার দিকে বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় শিশু মরিয়ম। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধান পাননি। একইদিন ইফতারের আগে বাড়ির পাশের একটি মাটির চুলা থেকে মরিয়মের নিথর দেহ উদ্ধার করে স্বজনরা। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। এমন নৃশংস ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহত শিশুর বাবা মিজানুর রহমান ও মামা হাবিবুর রহমান বলেন,আমাদের কলিজার টুকরাকে নেশাগ্রস্তরা মেরে ফেলেছে। আমরা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই,যেন এভাবে আর কোন বাবা-মায়ের বুক খালি না হয়।
এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম বলেন, নেশার টাকার জন্য এবং আসামিদেরকে চিনে ফেলার কারণে শিশু মরিয়মকে হত্যা করা হয়েছে বলে ইয়াছিন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। গতকাল
খবর পেয়েই তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থল থেকে শিশু মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়। রাতেই মামলা রেকর্ড করে হত্যাকান্ডে জড়িত দুই বন্ধুকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।