ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মারুয়াখালি গ্রামে মরিয়ম আক্তার (৪) নামে এক শিশু কন্যার রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।( বৃহস্পতিবার ১৯ তারি) এলাকায় মাটির তৈরি চুলার ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ।
নিহত মরিয়ম ওই গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান (৩০) ও রিমা আক্তার (২৪) দম্পতির মেয়ে। পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়ায় তার মৃত্যুতে স্বজনদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন শিশুটি দুপুর ১ টা থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে ইফতারি আগে বাড়ির পাশের একটি মাটির চুলা থেকে মরিয়মের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটির গলায় থাকা একটি রূপার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা তাকে টার্গেট করে। চেইন নেওয়ার সময় মরিয়ম চিৎকার শুরু করলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি গোপন করতে মরদেহ চুলার ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে সাদ্দাম মিয়া (৩৫) এবং তার ছেলে ইয়াসিন মিয়া (১৬)-কে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সাথে তাদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল আজম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনায় জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে এমন নৃশংস ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।