ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ইজিবাইক চালক মো. সবুজ মিয়া (৩৫) ১৬ বছর খালি পায়ে থাকার পর আজ পায়ে জুতা পরলেন।
২০১০ সালে ঢাকার গাজীপুরে বিএনপির এক মিছিলে হামলার সময় আহত হন সবুজ। সেই মিছিলে তিনি নিজের পায়ের জুতা হারিয়ে ফেলেছিলেন। তখন তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তার দল বিএনপি যতদিন ক্ষমতায় না আসবে ততদিন পায়ে জুতা পরবেন না। এরপর থেকে ১৬ বছর ধরে তিনি খালি পায়ে কাজ করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভের পর, আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ৯টায় নবনির্বাচিত এমপি ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু তাকে নিজের বাসভবনে ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন জুতা ও পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিয়ে দেন এবং তাকে বুকে জড়িয়ে নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মনি, যুগ্ম-আহ্বায়ক আতিকুর রাজ্জাক ভূঁইয়া হীরা, উপজেলা, পৌর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সবুজ মিয়ার বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের রাজারামপুর গ্রামে। তিনি প্রয়াত আসির উদ্দিনের ছেলে।
সবুজ মিয়া বলেন, ২০১০ সালে ঢাকার গাজীপুরে বিএনপির মিছিলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার হামলা চালায়। তখন আমি আহত হই এবং জুতা হারাই। সেদিন প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যতদিন বিএনপি ক্ষমতায় না আসবে, ততদিন পায়ে জুতা পরব না। আজ আমাদের নেতা লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে জুতা পড়িয়ে দিয়েছেন। আমি খুব আনন্দিত।
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের এমপি বলেন, জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও শ্রম বৃথা যায়নি। সবুজের এই জেদ ও ত্যাগ আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণা। আমরা দলের এমন নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে চাই।
সবুজ মিয়ার ১৬ বছরের এই অবিশ্বাস্য ত্যাগ এবং আনুগত্যকে এবার দলের নেতৃবৃন্দ সম্মান দিয়েছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক প্রেরণার দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।